0%

সিকিমে ফের ভারী তুষারপাত, বিপদের শঙ্কায় বন্ধ নাথু-লা সড়ক, বাবা মন্দির

বঙ্গে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট পর্বের উত্তাপের মধ্যে বুধবার ভোররাত থেকে উত্তর এবং পূর্ব সিকিমের উঁচু এলাকায় ফের ভারী তুষারপাত শুরু। বরফের পুরু আস্তরণে তলিয়ে অবরুদ্ধ হয়েছে নাথু-লা সড়ক। তুষারপাত দেখার নেশায় পর্যটকদের ভিড় বাড়লেও বিপদের আশঙ্কায় ছাঙ্গু উপত্যকার পর যাতায়াতের পাস ইস্যু বন্ধ রেখেছে সিকিম প্রশাসন। একই পরিস্থিতি হয়েছে উত্তর সিকিমের জিরো পয়েন্ট, গুরুদংমার হ্রদের মতো উঁচু এলাকা। সিকিম প্রশাসনের তরফে পর্যটকদের সতর্ক করে জানানো হয়েছে, অবিরাম তুষারপাতের ফলে উঁচু এলাকার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে তাপমাত্রা উদ্বেগজনকভাবে কমেছে। কিছু এলাকায় রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে ‘ব্ল্যাক আইস’-এর বিপদ বেড়েছে। দৃশ্যমানতা কমেছে। ওই কারণে আবহাওয়া দপ্তরের রিপোর্ট দেখে এবং ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনার পর যেন ভ্রমণ সূচি ঠিক করেন তারা।

আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩ মে পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি তুষারপাত চলবে পূর্ব এবং উত্তর সিকিমের গ্যাংটক ও মঙ্গন জেলার উঁচু এলাকায়। বুধবার ও বৃহস্পতিবার ওই দুই জেলায় ভারী বর্ষণের ‘কমলা’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্বভাবতই ভূমিধসের শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এছাড়াও বৃষ্টি ও তুষারপাতের প্রভাবে দ্রুত নামছে তাপমাত্রা। বুধবার পূর্ব সিকিমের চিন সীমান্তের নাথু-লা পাসের তাপমাত্রা মাইনাস ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে। বৃহস্পতিবার থেকে আরও নামতে পারে। সেখানে ৩ মে পর্যন্ত তুষারপাতের সঙ্গে দমকা হাওয়ার দাপাদাপি চলবে। ইতিমধ্যে বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা অনেকটাই কমে যাওয়ায় বিপদ বেড়েছে। তবে ছাঙ্গু উপত্যকার তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রয়েছে। সেটা বৃহস্পতিবার জিরো ডিগ্রিতে পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। শেরাথাংয়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বুধবার মাইনাস ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে। বৃহস্পতিবার সেটা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

বুধবার পূর্ব সিকিমের চিন সীমান্তের নাথু-লা পাসের তাপমাত্রা মাইনাস ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে। বৃহস্পতিবার থেকে আরও নামতে পারে। সেখানে ৩ মে পর্যন্ত তুষারপাতের সঙ্গে দমকা হাওয়ার দাপাদাপি চলবে। ইতিমধ্যে বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা অনেকটাই কমে যাওয়ায় বিপদ বেড়েছে।

এদিকে ভারী তুষারপাতের জন্য জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বাবা মন্দির এবং নাথুলা রোড বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জওহরলাল নেহেরু রোড ছাঙ্গু উপত্যকা পর্যন্ত খোলা রয়েছে। জুলুক সহ আরএন রোডের অংশটি পর্যটকদের জন্য খোলা আছে। বুধবার বিকেলেও ছাঙ্গু উপত্যকা এবং বাবা হরভজন সিং মন্দিরে নতুন করে তুষারপাতের খবর মিলেছে। ওই এলাকা শ্বেতশুভ্র ভূখণ্ডে রূপান্তরিত হয়েছে। সেখানকার স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। ছাঙ্গু উপত্যকার পর যান চলাচল বন্ধ হয়েছে। হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা। কনকনে ঠান্ডা হাওয়ায় উড়ছে বরফের কুচি। রাস্তা কয়েকফুট গভীর বরফে তলিয়েছে। দৃশ্যমানতা উদ্বেগজনক ভাবে কমেছে।

হেল্প ট্যুরিজমের কর্ণধার রাজ বসু বলেন, “সিকিম প্রশাসনের তরফে পর্যটকদের সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জওহরলাল নেহরু সড়কে যাতায়াতের বিষয়ে। পর্যটকদের বলা হয়েছে, ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে আবহাওয়া এবং রাস্তার অবস্থা জেনে নেওয়া হয়। কারণ দফায় দফায় তুষারপাত সড়কপথে যাতায়াতে প্রভাব ফেলতে পারে।”

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker