সেই নবান্নের চোদ্দ তলায় বসে, মমতাকে অতীতের কথা স্মরণ করালেন পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে আরজি কর-কাণ্ড। সেই মামলার তদন্ত গতি পেয়েছে। এই আবহেই নবান্নে গিয়ে আবেগঘন পোস্ট করলেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক তথা তিলোত্তমার মা রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath)। একসময় মেয়ের খুন-ধর্ষণের বিচার চেয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, ন্যায়বিচার তো দূরের কথা, বরং প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছিল সেই সময়েই।
কী লিখলেন রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath)?
রাজনৈতিক পালাবদলের পরে, সেই নবান্নেরই চোদ্দতলায় বসে অতীতের লড়াইয়ের কথা স্মরণ করলেন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ।
সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নবান্নের চোদ্দ তলায় বিজেপির ২৬ জন বিধায়ককে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রত্না দেবনাথও।
যে জায়গা থেকে একসময় গোটা রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন নবান্নের সেই ১৪ তলায় বসে নিজের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন তিলোত্তমার মা। সোশ্যাল মিডিয়ায় রত্না দেবনাথ লেখেন, “সততার শক্তি অনেক। শুধু অন্যায়ের বিরুদ্ধে ধৈর্য ধরে লড়াই করতে হয়।” পাশাপাশি তিনি আরও লেখেন, “আজ আমি এখন নবান্নের চোদ্দ তলায়। মুখ্যমন্ত্রীর নাম শুভেন্দু অধিকারী….তাঁর সঙ্গে বৈঠকে।”
শুধু তাই নয় তৃণমূল নেত্রীর উদ্দেশে কটাক্ষ করে রত্না দেবনাথ লেখেন, “আজ আমি এবং মমতা দু’জনই সর্বহারা।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি যেমন নিজের একমাত্র সন্তানকে হারিয়েছেন, তেমনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও হারিয়েছেন নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা। সেই তুলনার মধ্য দিয়েই নিজের বেদনা এবং রাজনৈতিক বার্তা তুলে ধরেছেন বিজেপি বিধায়ক।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফের নতুন করে খোলা হয়েছে আরজি কর-কাণ্ডের ফাইল। ইতিমধ্যেই সন্দীপ ঘোষ ও অভীক দে-র মতো অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।

আরও পড়ুন : ভূস্বর্গে নতুন করে কার্যকলাপ শুরু জামাতের! খবর পেয়েই কাশ্মীরে অভিযান NIA-র
বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চের নির্দেশ অনুসারে, আগামী ২৫ জুনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা করতে হবে কলকাতা হাইকোর্টে। রাজ্যের এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে রত্না দেবনাথের পোস্ট ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। একইসঙ্গে, বহুদিনের বিচারপ্রার্থীর কণ্ঠে উঠে এসেছে দীর্ঘ লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা।




