0%

৩০০০ মৃত্যু হলেও ক্ষতি নেই! খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে বিপর্যয়ের আশঙ্কায় খোঁড়া হয় বাড়তি কবরও

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে ইরানে। এই শেষকৃত্যের জনসমাবেশে পদপিষ্ট হয়ে দেড় থেকে ৩ হাজার জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করছে ইরান প্রশাসন। বিপুল ভিড় মোকাবিলায় ইরানের রেড ক্রিসেন্ট ও বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগের গোপন আলোচনার পর এমনই তথ্য সামনে এসেছে। জানা যাচ্ছে, এত মানুষের মৃত্যু হলে সেই দেহের শেষকৃত্যের জন্য হাজার হাজার কবরও খোঁড়া হয়েছে তেহরানে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর দিনের সেই ঘটনার ১২৬ দিন পর তেহরানে তাঁর অন্ত্যেষ্টির আয়োজন করেছে ইরান। ইতিমধ্যেই তেহরানে পৌঁছে গিয়েছে খামেনেইয়ের দেহাবশেষ। আগামী ৯ জুলাই হতে চলেছে খামেনেইয়ের শেষকৃত্য। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, এই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে ভাইস প্রেসিডেন্ট মহম্মদ রেজা আরেফকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। যেখানে ১৫০০ থেকে ৩০০০ মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়। মৃত ও নিখোঁজদের অনুসন্ধানে একটি বিশেষ ইউনিটও গঠন করা হয়েছে এবং তেহরানের বেহেশত-ই জাহরা কবরস্থানে হাজার হাজার কবরও খোঁড়া হয়েছে। তেহরান পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, ‘কবরগুলো সত্যিই প্রস্তুত করা হয়েছে।’ তাঁর কথায়, ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের বলা হয়েছে ৩ হাজার জনের যদি মৃত্যু হয় তাতেও কোনও সমস্যা হবে না। কারণ এত বিশাল জনসমাগম ও প্রচণ্ড গরমে কী ঘটবে কেউ জানে না।’

আরও পড়ুন:

খামেনেইয়ের শেষকৃত্য বর্তমান সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল শেষকৃত্যে পরিণত হতে চলেছে।

খামেনেইয়ের রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শনিবার তেহরান থেকে শুরু হয়েছে। এরপর কোম, ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহর পেরিয়ে মাশহাদে তা শেষ হবে। এরপর বৃহস্পতিবার সমাহিত করা হবে তাঁকে। অনুমান করা হচ্ছে, শেষ দিনে এখানে উপস্থিত হতে পারেন ২ কোটি মানুষ। সেই লক্ষ্যে যাবতীয় প্রস্তুতিও সেরে ফেলা হয়েছে। যাতায়াতের জন্য হাজার হাজার বাস, বিমান পরিষেবা, রান্নার ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এই কয়েকদিনের প্রস্তুতি সারার জন্য তেহরানের জন্য দেড় কোটি ইউরো এবং কোম ও মাশহাদের জন্য আরও পাঁচ কোটি ইউরো করে বরাদ্দ হয়েছে। সবমিলিয়ে খামেনেইয়ের শেষকৃত্য বর্তমান সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল শেষকৃত্যে পরিণত হতে চলেছে। শুধু তাই নয়, শেষকৃত্যের এই অনুষ্ঠানে সর্বাধিক মানুষের মৃত্যুরও আশঙ্কা করছে সেখানকার প্রশাসন।

অবশ্য ইরানের ইতিহাসে বড় কোনও নেতার শেষকৃত্যে মৃত্যুর ঘটনা নতুন কিছু নয়। ২০২০ সালে কেরমানে আইআরজিসি কমান্ডার কাসেম সোলেমানির শেষকৃত্যে অন্তত ৫৬ জনের মৃত্যু এবং ২০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছিলেন। ১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির শেষকৃত্যেও ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।যার জেরে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয় এবং শতাধিক মানুষ আহত হন।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

শেয়ার

লিংক

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker