৪৪০ কোটি টাকায় তালা! ‘শেষ সম্বল’ বাঁচাতে এবার বড় পদক্ষেপের পথে তৃণমূল

বাংলা হান্ট ডেস্ক : দলের আর্থিক তহবিলকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) অন্দরে অস্বস্তি ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। ইতিমধ্যেই একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে থাকা দলের তিনটি অ্যাকাউন্টে জমা প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে টাকা আটকে থাকার সমস্যা কাটাতে আইনি পদক্ষেপের কথা ভাবছে শাসকদল।
৪৪০ কোটি টাকা ফেরাতে কোমর বাঁধছে তৃণমূল (Trinamool Congress)
দলীয় মহলের তথ্য অনুযায়ী, ১২ জুন সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ককে অ্যাকাউন্টগুলির উপর স্থগিতাদেশ জারির অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস। যদিও তৃণমূল তারও এক সপ্তাহ আগেই, অর্থাৎ ৫ জুন, তাঁকে কোষাধ্যক্ষের পদ থেকে অপসারণ করে সেই দায়িত্ব দেয় শুভাশিস চক্রবর্তীকে। এরপরই অরূপের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করা হয়।
শোনা যাচ্ছে, শোকজের জবাবে তিনি যে লিখিত উত্তর জমা দিয়েছেন, তাতে নেতৃত্বের প্রতি তাঁর ক্ষোভ স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের দাবি, ওই চিঠির ভাষা কার্যত দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে, গত শুক্রবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলের তহবিলে থাকা বিপুল অর্থের উৎস সম্পর্কে।
সেই ঘটনার জেরে জয়নগরের এক বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তিনটি অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ করে দেয়। ফলে বর্তমানে কালীঘাটের নেতৃত্বের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে এই অর্থকে নিজের কাছে আনা। সূত্রের খবর, অ্যাকাউন্টগুলির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনজীবীদের সঙ্গেও আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন : ভয়ে কাঁপবে শত্রুপক্ষ! মোদীর উদ্বোধন করা ৩ যুদ্ধজাহাজের বিশেষত্ব জানুন
তৃণমূলের ৪৪০ কোটি টাকা ফ্রিজ হওয়ার প্রসঙ্গে পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, “ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের যা নিয়মাবলি রয়েছে, সেই কারণে সিজ করা হয়েছে। এটা তো আমরা সবাই বুঝতে পারছি, আন ‘অ্যাকাউন্টেড মানি’, অনৈতিকভাবে সংগৃহীত অর্থ। তা দিয়েই তৃণমূল এতদিন পরিচালিত হত। ফলে এই ধরনের অ্যাকাউন্টকে নিয়ে যা যা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, সেগুলিই নেওয়া হবে।” এদিকে ফ্রিজ হওয়া অর্থের উৎস এবং সেই অর্থের লেনদেন সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখতে সক্রিয় হয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। বিপুল অঙ্কের এই তহবিল কোথা থেকে এসেছে এবং তার বৈধতা কতটা, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন জোরদার অনুসন্ধান চলছে।




