0%

চিনির পরিবর্তে প্রাকৃতিক সুইটনার ব্যবহার করছেন? সতর্কবার্তা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা

এখন কমবেশি সব চিকিৎসকরাই চিনি কম খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। ডায়াবেটিস, ওজন বৃদ্ধি ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ানোর কারণে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা দীর্ঘদিন ধরেই পরিশোধিত চিনির ব্যবহার কমানোর কথা বলে আসছেন। তাই চিনির পরিবর্তে প্রাকৃতিক সুইটনার বেছে নিচ্ছেন অনেকে। তবে এগুলো কি আদতেও নিরাপদ? কী বলছেন চিকিৎসকরা? গবেষণাই বা কী বলছে?

প্রাকৃতিক সুইটনার হিসাবে গুড়, মধু, খেজুর, স্টিভিয়া , মনক ফ্রুটকে বেছে নিচ্ছেন অনেকে। এগুলিকে অনেক সময় ‘চিনির চেয়ে ভালো’ বিকল্প হিসাবে তুলে ধরা হয়। কিন্তু সত্যিই কি এগুলি সম্পূর্ণ নিরাপদ?

পুষ্টিবিদদের মতে, প্রাকৃতিক সুইটনারের বেশ কিছু গান রয়েছে। যেমন গুড়ে সামান্য পরিমাণে আয়রন ও খনিজ পদার্থ থাকে, যা পরিশোধিত চিনিতে একেবারেই নেই। মধুতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান পাওয়া যায়, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আবার স্টিভিয়া উদ্ভিদজাত এবং এতে ক্যালরি প্রায় নেই, ফলে রক্তে শর্করা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম।

Healthline এবং Verywell Health-এর মতো আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্টিভিয়া ও মনক ফ্রুটের গ্লাইসেমিক প্রভাব কম। অর্থাৎ এগুলি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ায় না। এই কারণেই ডায়াবেটিস রোগীরা নির্দিষ্ট পরিমাণে এগুলো খেতে পারেন।

তবে রয়েছে সমস্যাও। গুড়, মধু বা খেজুর প্রাকৃতিক হলেও এগুলি শেষ পর্যন্ত শর্করাই। অতিরিক্ত গ্রহণ করলে এই গুলোও রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে। আবার বাজারে পাওয়া অনেক মনক ফ্রুট বা স্টিভিয়া-ভিত্তিক পণ্যে ইরিথ্রিটল বা অন্যান্য উপাদান মেশানো থাকে, যেগুলির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে।

WHO-র সাম্প্রতিক গাইডলাইন অনুযায়ী, শুধুমাত্র নন-সুগার বা প্রাকৃতিক সুইটনার ব্যবহার করে যে ওজন কমানো যায়,  এর এখনও নির্দিষ্ট কোনও প্রমাণ মেলেনি। আসল পরিবর্তন আসে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায়।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker