0%

বৈষ্ণোদেবী যাত্রায় অলৌকিক ঘটনা! জ্ঞান হারিয়েছেন অক্ষয়!

বলিউডের ‘খিলাড়ি’ তিনি। পর্দায় হাজারো স্টান্ট করতে যাঁর হাত কাঁপে না, সেই অক্ষয় কুমারের জীবনই এক সময় সংকটের মুখে পড়ে গিয়েছিল। অভিনেতা আজ যেখানেই পৌঁছে যান না কেন, তাঁর শিকড় কিন্তু আজও সেই পুরনো স্মৃতিতেই আটকে। সম্প্রতি নিজের আগামী ছবি ‘ভুত বাংলা’র প্রচারে এসে অক্ষয় শোনালেন তাঁর ছোটবেলার এক হাড়হিম করা অভিজ্ঞতার কথা। মা বৈষ্ণোদেবীর দরবারে গিয়ে এক সময় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন তিনি। ঘটনাটি কেবল ট্র্যাজেডি নয়, বরং এক অলৌকিক কাহিনি বললেও ভুল হবে না।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অক্ষয় জানান, তাঁর জন্মের আগে তাঁর মা-বাবা বৈষ্ণোদেবীর কাছে গিয়ে প্রার্থনা করেছিলেন একটি সন্তানের জন্য। অভিনেতা মজা করে বলেন, “আমার বাবা-মা চেয়েছিলেন তাঁদের সন্তান যেন খুব দুষ্টু হয়। তার এক বছর পরেই আমার জন্ম হল।” অক্ষয় একটু বড় হতেই তাঁকে নিয়ে বৈষ্ণোদেবী দর্শনে গিয়েছিলেন দম্পতি। কিন্তু কে জানত, সেই আনন্দযাত্রাই চরম বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে!

১৯৬৯ সালের সেই দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে অক্ষয় আজও কিছুটা আবেগপ্রবণ। কাটরার দুর্গম পথ দিয়ে ওঠার সময়ই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ছোট্ট অক্ষয়। শরীরের তাপমাত্রা হু হু করে বাড়তে শুরু করে। ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি জ্বর! অক্ষয় শোনালেন সেই ভয়ানক মুহূর্তের কথা— “আমি সম্পূর্ণ জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। কাটরার চিকিৎসকরা হাত তুলে দিয়ে বলেছিলেন, এখানে পরিকাঠামো নেই, ওকে এখনই দিল্লিতে নিয়ে যান। কিন্তু সেই সময়ে পাহাড় থেকে নেমে দ্রুত দিল্লি পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব ছিল।”

চিকিৎসকদের পরামর্শ অগ্রাহ্য করেই অক্ষয়ের মা এক অটল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “মা যদি এই সন্তান দিয়ে থাকেন, তবে তিনি চাইলে ফিরিয়েও নিতে পারেন। কিন্তু আমরা মন্দির থেকে ফিরে যাব না।” অচেতন অক্ষয়কে কোলে নিয়েই শুরু হয় পাহাড়ে ওঠা। মন্দিরে পৌঁছে অক্ষয়কে নিয়ে অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে প্রার্থনা করেন তাঁর বাবা-মা। ঠিক সেই সময়ই ঘটে এক অভাবনীয় ঘটনা।

অক্ষয় জানান, মন্দিরের ভেতর এক অজানা ব্যক্তি তাঁর বাবার কাছে এসে বলেন, “আপনার ছেলের হাসিটা খুব সুন্দর তো!” অবাক হয়ে অক্ষয় কুমার দেখেন, অলৌকিকভাবেই তাঁর জ্বর উধাও হয়ে গিয়েছে। থার্মোমিটারে তাপমাত্রা তখন ৯৮ ডিগ্রি। যে শিশু কিছুক্ষণ আগেও নিথর হয়ে পড়ে ছিল, সে তখন হাসছে! কোনো ওষুধ নয়, বরং ভগবানের সেই অমোঘ শক্তিই তাঁকে সারিয়ে তুলেছিল বলে বিশ্বাস করেন অভিনেতা।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৫ বছর পর অক্ষয় কুমার এবং পরিচালক প্রিয়দর্শন ফের জুটি বাঁধছেন ‘ভুত বাংলা’ ছবির মাধ্যমে। তাবু, পরেশ রাওয়াল, রাজপাল যাদব এবং আসরানির মতো তারকাখচিত এই ছবিটি আগামী ১৬ এপ্রিল ২০২৬-এ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে। তার আগেই অক্ষয়ের এই ছোটবেলার স্মৃতি অনুরাগীদের মধ্যে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker