0%

Chetak Screen Awards 2026: কস্টিউমেই তৈরি হয়েছিল ‘ধুরন্ধর’-এর ম্যাজিক, বললেন ডিজাইনার স্মৃতি চৌহান

 ‘ধুরন্ধর ২’-এর প্রিকুয়েল মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে ঝড় তুলেছিল। দর্শকদের উন্মাদনা, সমালোচকদের প্রশংসা এবং দুর্দান্ত ভিজ্যুয়াল স্টাইল- সব মিলিয়ে ছবিটি সেই বছরের অন্যতম বড় সাফল্যে পরিণত হয়েছিল। সেই সাফল্যেরই প্রতিফলন দেখা গিয়েছিল চেতক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ, যেখানে একের পর এক বিভাগে বাজিমাত করেছিল ছবিটি। মোট ১৪টি পুরস্কার জিতে কার্যত অনুষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তার করেছিল ‘ধুরন্ধর’।

এই ছবির জন্য সেরা পোশাক পরিকল্পনার সম্মান পেয়েছিলেন কস্টিউম ডিজাইনার স্মৃতি চৌহান। পুরস্কার জয়ের পর তিনি ছবির অন্যতম স্মরণীয় দৃশ্য তৈরির অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছিলেন। সেটি ছিল সেই মুহূর্ত, যখন অক্ষয় খান্নার চরিত্রকে ‘শের-ই-বালুচ’ উপাধিতে সম্মানিত করা হয়েছিল। স্মৃতির কথায়, “ওই দৃশ্যের জন্য চরিত্রটিকে আলাদা করে তুলে ধরা খুব জরুরি ছিল। পরিচালক আদিত্য ধর চেয়েছিলেন, ভিড়ের মধ্যেও যেন ওকে চোখে পড়ে। তাই আমরা সম্পূর্ণ কালো পোশাকের ভিড়ের মধ্যে অক্ষয় খান্নার জন্য আলাদা রঙ ব্যবহার করেছিলাম। এমনকি ছবিতে একমাত্র সেই দৃশ্যেই ওঁকে সানগ্লাস পরানো হয়েছিল।”

EIMPA: ইম্পায় গৃহযুদ্ধ! অন্তর্বর্তী সভাপতি রতন সাহা, মানতে নারাজ পিয়া সেনগুপ্ত

স্মৃতি আরও জানিয়েছিলেন, ছবির শুরু থেকেই পরিচালক আদিত্য ধর একটি আলাদা ভিজ্যুয়াল জগৎ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। বাস্তব পাকিস্তান বা লিয়ারির ছবি থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হলেও, তাঁরা সেই জগতকে আরও স্টাইলাইজড ও সিনেম্যাটিক রূপ দিয়েছিলেন। “আমরা শুধু বাস্তবকে তুলে ধরতে চাইনি, বরং এমন একটা পৃথিবী বানাতে চেয়েছিলাম যা বিশ্বাসযোগ্য অথচ আলাদা,” বলেছিলেন তিনি।

বিশাল অ্যাকশন দৃশ্য এবং ভিড়ের সিকোয়েন্স সামলানো ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। স্মৃতির মতে, “অ্যাকশন দৃশ্যে কখন কী প্রয়োজন হবে, আগে থেকে বোঝা যায় না। আর এত বড় সংখ্যক জুনিয়র আর্টিস্টকে একই সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করাও কঠিন ছিল।”

শাড়ি থেকে টাক্সেডো—দুই লুকে চমকে দিলেন আলিয়া ভাট

অন্যদিকে পরিচালক আদিত্য ধরও সামাজিক মাধ্যমে স্মৃতি চৌহানের প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, “জসকিরাতের চরিত্রে কীভাবে ধীরে ধীরে রঙ হারিয়ে যাবে, সেই ভাবনাটা প্রথমে শুধু একটা ছোট্ট ধারণা ছিল। কিন্তু স্মৃতি সেটাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিল।”

আদিত্য আরও জানিয়েছিলেন, শুরুতে স্মৃতি নিজেই এত বড় প্রকল্প নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন। কিন্তু পরিচালক তখনই বুঝেছিলেন, তাঁর সততা ও নিষ্ঠাই এই ছবির সবচেয়ে বড় শক্তি হবে। “তুমি শুধু পোশাক তৈরি করোনি, একটা সম্পূর্ণ জগৎ তৈরি করেছিলে,” লিখেছিলেন আদিত্য।

‘ধুরন্ধর’-এর সাফল্য শুধু অভিনয় বা পরিচালনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ছবির প্রতিটি ফ্রেমে যে নিখুঁত নান্দনিকতা ধরা পড়েছিল, তার বড় কৃতিত্ব গিয়েছিল স্মৃতি চৌহানের মতো শিল্পীদের হাতেই।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker