0%

মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ! বন্ধ হবে টাটার iPhone কারখানা? সঙ্কটের মুখে হাজার হাজার চাকরি

সবদিক নিউজ: তামিলনাড়ুর হোসুরে টাটা ইলেকট্রনিক্সের (Tata Electronics) iPhone-এর যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানার হয়েছে। এবার এই কারখানাকে ঘিরেই ওই রাজ্যে সম্প্রতি ক্ষমতায় আসা মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের (থালাপতি বিজয়) নতুন সরকার একটি বড় শিল্প ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। কারণ, ওই কারখানাটি বর্তমানে আইনি ও পরিবেশগত বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অভিযোগ করেছে যে, কারখানাটির বর্জ্য জল পার্শ্ববর্তী জমির ভূগর্ভস্থ জলকে দূষিত করেছে। এমতাবস্থায়, দূষণ বোর্ড কঠোরভাবে সতর্ক করে জানিয়েছে, সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়া গেলে কারখানাটি জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। আর এমনটা হলে হাজার হাজার মানুষের চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই কারখানায় মোট প্রায় ৭৫,০০০ কর্মী কাজ করেন।

বন্ধ হবে টাটার (Tata Electronics) iPhone কারখানা?

মুখ্যমন্ত্রীর সামনে বড় সঙ্কট: এদিকে, সামগ্রিক বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারণ, একদিকে তিনি স্থানীয় কৃষক ও পরিবেশের স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে চাপে আছেন, অন্যদিকে রাজ্যে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও গ্লোবাল বিনিয়োগ নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও তাঁর কাঁধে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিজয়ের সামনে দ্বৈত চ্যালেঞ্জ উপস্থিত হয়েছে।

Will Tata Electronics iPhone company be shut down?

তামিলনাড়ুতে চাকরি হারানোর আশঙ্কা: জানিয়ে রাখি যে, টাটা ইলেকট্রনিক্সের এই কারখানাটি তাইওয়ানের ফক্সকনের পর দক্ষিণ এশিয়ায় Apple-এর দ্বিতীয় বৃহত্তম সাপ্লায়ার হিসাবে বিবেচিত হয়। যেখানে হাজার হাজার স্থানীয় মানুষ কাজ করেন। দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের এই বিজ্ঞপ্তির পর কারখানায় কাজ বন্ধ হয়ে গেলে বা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে, তা হোসুর ও তার আশপাশের এলাকার হাজার হাজার কর্মসংস্থানকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলবে। মূলত, iPhone-এর ব্যাক প্যানেল এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী এই ইউনিটটি বন্ধ হয়ে গেলে তা Apple-এর সমগ্র গ্লোবাল সাপ্লাই চেনকে প্রভাবিত করতে পারে। যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। রিসার্চ ফার্ম কাউন্টারপয়েন্টের মতে, ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত মোট iPhone-এর মধ্যে ভারতে এর অংশ ২৬ শতাংশে বৃদ্ধি হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যার একটি বড় অংশ আসবে তামিলনাড়ুর কারখানা থেকে। এমন পরিস্থিতিতে এই কারখানার সঙ্কট রাজ্যের শিল্প ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

 শুধুমাত্র মে মাসেই ৬.৭ বিলিয়ন ডলারের আমদানি! যুদ্ধের আবহে রাশিয়া থেকে বিপুল তেল কিনছে ভারত

কয়েকমাস ধরে পাওয়া অভিযোগের পর তদন্তটি শুরু হয়: উল্লেখ্য যে, হোসুর কারখানার নিকটবর্তী কৃষি জমির মালিকরা তামিলনাড়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (TNPCB) কাছে বারবার অভিযোগ করেছিলেন যে, কারখানাটির রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্য জল তাদের জমি ও খোলা কুয়ো নষ্ট করে দিচ্ছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে, আধিকারিক ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬-এর মে মাসের মধ্যে কারখানাটিতে ৫ টি আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা করেন। ২৫ মে তারিখের একটি নিয়ন্ত্রক বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, টাটা ওই কারখানার সীমানার মধ্যে অবস্থিত একটি বৃষ্টির জল সংগ্রহের পুকুরে দূষিত জল নিষ্কাশন করেছিল। এই পুকুরটি উপচে সংলগ্ন মাঠ এবং খোলা কুয়ার ভূগর্ভস্থ জলের সঙ্গে মিশে যায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর টাটাকে নির্দেশ জারি করা হলেও সংস্থাটি কোনও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেয়নি।

 বন্ধ হবে পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার? সবুজ সঙ্কেত পেল ১০০ শতাংশ ইথানল জ্বালানি, ফাইলে সই নিতিনের

টাটা ইলেকট্রনিক্সের দাবি: এদিকে, টাটা ইলেকট্রনিক্স এই বিতর্কের বিরুদ্ধে নিজেদের পক্ষ সমর্থন করে জানিয়েছে যে, তারা পরিবেশ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতি সম্পূর্ণভাবে দায়বদ্ধ। সংস্থাটি একটি বিবৃতি জারি করে বলেছে যে, তামিলনাড়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (TNPCB) কাছ থেকে নোটিশ পাওয়ার পরপরই তারা একটি স্বীকৃত পরীক্ষাগারের মাধ্যমে স্বাধীন বিশ্লেষণ চালিয়েছে। এই সমীক্ষায় দেখা গেছে যে সংস্থাটি সকল নিয়ন্ত্রক বিধি-বিধান সম্পূর্ণরূপে মেনে চলেছে। পাশাপাশি, সংস্থাটি জানিয়েছে যে তারা যথাসময়ে বোর্ডের কাছে জবাব দাখিল করেছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker