২১ জুলাই পালনে আপত্তি নেই, কিন্তু… বড় শর্তের কথা জানালেন অগ্নিমিত্রা

বাংলা হান্ট ডেস্ক : ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। ধর্মতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের বার্ষিক সমাবেশ আদৌ নির্বিঘ্নে করা যাবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এই আবহে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Pal)। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কোনও সভা বা মিছিলের জন্য শহরের রাস্তা সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করা যাবে না।
২১শে জুলাই প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Pal)
দুর্গাপুরে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গণতান্ত্রিক দেশে কোনও রাজনৈতিক দলকে কর্মসূচি করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। তবে আইন ভেঙে বা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে কোনও কর্মসূচি চলতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, “কেউ তো বারণ করেনি। করতেই পারেন। কিন্তু, সরকারের নিয়ম মেনে করতে হবে। রাস্তা বন্ধ করে, জোরে লাউডস্পিকার চালিয়ে, মানুষকে বিরক্ত করে করা যাবে না। সবাই তো আপনার দলের নয়। যাঁরা আপনার দলকে সমর্থন করেন না, আপনি তাঁদের বিরক্ত করবেন কেন?”
বর্তমান সরকারের ভূমিকার সঙ্গে অতীতের প্রশাসনের তুলনা টেনে বিরোধী রাজনীতির প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন অগ্নিমিত্রা বলেন, “যে সরকারকে আপনারা ১৫ বছর দেখেছেন, আমরা ওই সরকার নই। সেইসময় বিধানসভার বিরোধী দলনেতাকে সবকিছুতে হাইকোর্টে ছুটতে হয়েছিল অনুমতির জন্য। আমরা সেই সরকার নই। আমরা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সিপিএম, কংগ্রেসের মুখ বন্ধ করে রাজনীতি করতে আসিনি। আমরা শক্তিশালী বিরোধী চাই।”
এদিকে, ধর্মতলায় শহিদ দিবস পালনের দাবিতে অনড় তৃণমূল। দলের নেতা কুণাল ঘোষ জানান, এই কর্মসূচির সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক যোগ রয়েছে। তাই স্থান পরিবর্তনের প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর কথায়, “ওখানে প্রতি বছর শহিদ দিবস পালন হয়। এবার সরকার অনুমতি না দিলে কী পদক্ষেপ করা হবে, তা দলের নেতৃত্বই ঠিক করবেন। তবে যেহেতু ঘটনাটি ওখানে ঘটেছিল, তাই শহিদ দিবস ধর্মতলাতেই পালন হয়।” পাশাপাশি রেড রোডে যোগ দিবস উপলক্ষে যান চলাচলে বিধিনিষেধের বিষয়টিও তুলে ধরে তিনি সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

আরও পড়ুন : ২৭ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত? SIR শুনানি নিয়ে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ অধীর
উল্লেখ্য, শুক্রবার দলীয় বৈঠক থেকে কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিতে গিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের মিটিং মিছিলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। একুশে জুলাইয়ের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছে। আশা করি আমরা ২১ জুলাইয়ের অনুমতি পাব। বছরে তৃণমূলের একটাই প্রোগ্রাম। আর সেই প্রোগ্রাম অনেক ঝড়-জল পেরিয়ে আমাদের করতে হবে। কিন্তু, পাঁচজন কর্মী থাকলেও আমাদের মিটিং হবে। তাই ২১ জুলাই সমবেত হন, জমায়েত হন।” এখন নজর প্রশাসনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। আদালতের নির্দেশ মেনে ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের অনুমতি মেলে কি না, সেটাই আগামী কয়েক দিনের অন্যতম রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে চলেছে।




