সিকিমে নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ধস, প্রাণ হারালেন বাংলার ১১ শ্রমিক

AK Bangla Desk: রুটিরুজির সন্ধানে ভিটেমাটি ছেড়ে পাহাড়ে কাজ করতে গিয়ে আর ফেরা হল না। সিকিমের নামচিতে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে হঠাৎ ধস নেমে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১১ জন শ্রমিক। সবচেয়ে করুণ বিষয় হল, মৃতদের সকলেই পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, এই ১১ জনের মধ্যে ৯ জনই জলপাইগুড়ির মালবাজার ও সংলগ্ন এলাকার লোক।
গতকাল, সোমবার দুপুরে সিকিমের পূর্ব সিকিম জেলার পকিয়ং সংলগ্ন নামচি ও রংপোর মামরিং এলাকায় প্রায় ২৫০ মিটার দীর্ঘ এই সুড়ঙ্গটি তৈরির কাজ চলছিল। ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের তিস্তা স্টেজ-৪ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাছে তৈরি হওয়া এই টানেলটি গ্যাংটক ও নাথু-লা পাসের সামরিক এবং পর্যটন যাতায়াতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কাজ চলাকালীনই আচমকা বিশালাকার ধস নেমে আসে। মুহূর্তে চাপা পড়েন কর্মরত শ্রমিকরা। খবর পেয়েই জোরকদমে উদ্ধারকাজ শুরু হলেও বহু সেনাকে বের করে আনার আগেই জীবনপ্রদীপ নিভে যায়। ভেতরে এখনও আরও অনেকের আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
নিহতদের সিংহভাগই ডুয়ার্সের বিভিন্ন চা বাগানের প্রাক্তন কর্মী ছিলেন। চা বাগানের রুগ্ন দশা এবং বকেয়া বেতনের অনিশ্চয়তার কারণে বাধ্য হয়েই তাঁরা সিকিমের এই বিপজ্জনক টানেল নির্মাণে শ্রমিকের কাজ নিয়ে গিয়েছিলেন। মৃত্যুর খবর পৌঁছাতেই ডুয়ার্সের মেটেলি ও নাগরাকাটা ব্লকে যেন বজ্রপাত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে মেটেলি ব্লকের কিলকোট চা বাগানের গ্রাবিয়েল টিজ্ঞা, শিবা মুডা ও বিকেশ্বর ওঁরাও, ইনডং চা বাগানের শ্যাম ওঁরাও এবং নাগেশ্বরী চা বাগানের অমিতলাল গোর রয়েছেন।
অন্যদিকে, নাগরাকাটা ব্লকের গ্রাসমোর চা বাগানের বাসিন্দা আনন্দ টোপ্পো, সুখানি বস্তির অর্জুন সাওতাল এবং শুলকাপাড়ার বালো ওঁরাওয়ের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এছাড়া বানারহাটের বিন্নাগুড়ি পঞ্চায়েতের তেলিপাড়া চা বাগানের আদেশ ওঁরাও মারা গিয়েছেন বলে খবর। আরও কয়েকজন এখনও নিখোঁজ।
প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সিকিমে ইতিমধ্যেই লাল সতর্কতা (Red Alert) জারি রয়েছে। সেই প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য প্রশাসনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পরিস্থিতি তদারকি ও মরদেহ ফিরিয়ে আনার জন্য দ্রুত সিকিমের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।
স্বজনহারা পরিবারগুলোর কান্নায় বাতাস এখন ভারী। অভাবের তাড়নায় কাজ করতে গিয়ে এভাবে ঘরের ছেলেদের কফিনবন্দি হয়ে ফেরার ঘটনায় গোটা ডুয়ার্সজুড়ে চরম নেমে এসেছে শোকের ছায়া।



