সঞ্জুর চওড়া ব্যাট, ফিনিশারের ভূমিকায় নমন, কিউয়ি ভূমে জয় দিয়ে সিরিজ শুরু ভারতের

নিউজিল্যান্ড: ২২৫/৪ (ফিলিপ্স ৮২, অ্যালেন ৪৫, ময়ঙ্ক ৪০/১, অর্শদীপ ৪৫/১)
ভারত: ২৩০/৬ (সঞ্জু ৬৭, নমন ৪২*, ব্রেসওয়েল ৩৭/২, স্যান্টনার ৩৯/২)
৪ উইকেটে জয়ী ভারত।
গ্লেন ফিলিপ্সের দুরন্ত ব্যাটিংয়ে ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের নজির গড়েছিল নিউজিল্যান্ড। ক্রাইস্টচার্চে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২২৫ রান তোলে কিউয়িরা। জবাবে ঝোড়ো শুরু করলেন সঞ্জু স্যামসন। তাঁর চওড়া ব্যাট জয়ের ভিত গড়ে দিল। অধিনায়কোচিত ইনিংস খেললেন শ্রেয়স আইয়ার। ফিনিশারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন নমন ধীর। সব মিলিয়ে কিউয়ি ভূমে বোলারদের ‘ব্যর্থতা’ ঢেকে ২ বল বাকি থাকতে জয় পেল টিম ইন্ডিয়া। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে গেল ‘মেন ইন ব্লু’।
পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য দিন কয়েক প্রস্তুতির সুযোগ পেয়েছে টিম ইন্ডিয়া। তবে সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে দূরে সরিয়ে ভারতীয় দলের পারফরম্যান্স সত্যিই প্রশংসাযোগ্য। টিম ইন্ডিয়ার ওপেনিং স্লটে কোনও বদল আসেনি। অভিষেক শর্মা এবং সুঞ্জু স্যামসন গোড়ায় নামেন। তবে ক্রাইস্টচার্চে সবার নজর ছিল ভুবনেশ্বর কুমারের দিকে। চার বছর পর জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন হয়েছে তাঁর। অনেকেই মনে করছেন এই সিরিজ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে ভারতীয় পেসারের কাছে। কিন্তু কোথায় কী? প্রথম ওভারে আঁটসাঁট বোলিং করলেও তাঁকে পড়তে বেশি সময় নিলেন না কিউয়ি ব্যাটাররা। সব মিলিয়ে কোটার চার ওভারে দিলেন ৪৯ রান।
4️⃣2️⃣* Runs 1️⃣5️⃣ Balls 2️⃣8️⃣0️⃣ Strike Rate 5️⃣ Fours & 2️⃣ Sixes How good was that match-winning finish from Naman Dhir? 👇 Scorecard ▶️ https://t.co/ADfFnxXGzz #TeamIndia | #NZvIND https://t.co/4PgLm8Rbim
— BCCI (@BCCI) October 22, 2026
নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের প্রধান কারিগর ফিলিপ্স। কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাট করতে নেমে শেষ পর্যন্ত ৪৮ বলে ৮২ রানে অপরাজিত থাকলেন তিনি। ইনিংসের শেষ বলেও স্যুইচ হিটে চার মেরে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিলেন কিউয়ি তারকা। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিলেন ফিন অ্যালেন (৪৫), বেভন জ্যাকবস (৩১) এবং ড্যারিল মিচেল (২৮)। ভারতের হয়ে আর্শদীপ সিং, ময়াঙ্ক যাদব ও অক্ষর প্যাটেল একটি করে উইকেট নেন।
২২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত করে ভারত। ওপেনার সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটে ঝড় ওঠে। মাত্র ২৩ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। সাতটি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংসে পাওয়ার প্লে-র পরেও রানের গতি কমেনি। মিচেল স্যান্টনারকে চার মেরে সপ্তম ওভারেই ভারতকে ১০০ রানের গণ্ডি পার করান সঞ্জু। ৮ ওভার শেষে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ১ উইকেটে ১১২। যদিও স্পিনাররা আসার পর ধীরে ধীরে ছবিটা বদলাতে শুরু করে। ব্রেসওয়েলের বলে অ্যাডাম মিলনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অভিষেক শর্মা। ১২ বলে ২৯ রান করেন তিনি। বাঁহাতি তারকার ইনিংসে ছিল দু’টি চার ও তিনটি ছক্কা। এরপর ব্যাট করতে নেমে তিলক বর্মা ১১ বলে মাত্র ৬ রান করে আউট হন। তিন নম্বরে তাঁকে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। কারণ এতদিন তাঁকে ফিনিশারের ভূমিকায় নামানো হচ্ছিল। তিনে নেমে একেবারেই ছন্দ পাননি তিনি। তাঁর আগে অবশ্য স্যান্টনারের বলে প্লেড-অন হন সঞ্জু। তাঁর সংগ্রহ ৩৩ বলে ৬৭ রান। তাঁর ইনিংসে ছিল আটটি চার, চার ছক্কা।
তিন নম্বরের জায়গা হারিয়ে পাঁচে নামা ঈশান কিষানও ব্যর্থ। মাত্র তিন বল খেলে এক রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। একটা সময় ৫.৪ ওভারে বিনা উইকেটে ৯৩ রান ছিল ভারতের। কিন্তু ১০.৩ ওভারে চিত্রনাট্য বদলে যায়। সেই সময় ভারতের রান ৪ উইকেটে ১২২। এই পরিস্থিতিতে শুরুটা ভালো করেও ১৪ বলে ২৪ রান করে আউট হন অক্ষর প্যাটেল। এরপর লড়াই চালালেন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। প্রথম তিন ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়েছিলেন মিচেল স্যান্টনার। অথচ শেষ ওভারে দিলেন ১৯ রান। শেষ ১২ বলে ভারতের দরকার ছিল ১৬ রান। সেই সময়েই অযথা বড় শট খেলতে গিয়ে আউট শ্রেয়স আইয়ার (২৮ বলে ৪২)। তবে ম্যাচের ‘টুইস্ট’ তখনও বাকি। ফিনিশারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন নমন ধীর। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৮ রান। ১৫ বলে ৪২ রান করে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন তিনি। ম্যাট হেনরির বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দু’বল বাকি থাকতেই ভারতের জয় নিশ্চিত করেন নমন।
তবে জয়ের রাস্তা আরও সহজ করে দিয়েছিল নিউজিল্যান্ডের জঘন্য ফিল্ডিং। পাঁচটি ক্যাচ ফেললেন কিউয়িরা। তারই খেসারত দিতে হল স্যান্টনারদের। তবে ফিল্ডিংয়ে ভারতও খুব একটা ভালো নম্বর পাবে না। দুই দলেরই ফিল্ডিং ছিল হতাশাজনক। শ্রেয়সদের ব্যাটিংয়ের দাপটে জয় এলেও বোলারদের ব্যর্থতা নতুন করে চিন্তায় রাখল গৌতম গম্ভীরকে। আরও একবার ২০০-র বেশি রান দিলেন ভারতীয় বোলারেরা। কাউকেই দেখে মনে হল না, ছন্দে রয়েছেন। এর আগে টি-টোয়েন্টিতে সর্বাধিক ২০৯ রান তাড়া করে জিতেছিল ভারত। ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। কয়েকদিন আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ২২২ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো করেও শেষরক্ষা হয়নি। এবার অবশ্য ভুল করেননি ভারতীয় ব্যাটারেরা। জয় এল ঠিকই। কিন্তু বোলিংয়ের দুর্বলতা চিন্তায় রাখবে কোচ গৌতম গম্ভীরকে। পরবর্তী টি-টোয়েন্টি শনিবার, ২৪ অক্টোবর।
শেয়ার
লিংক



