0%

অভিষেকেই ‘দুরন্ত ঘূর্ণি’ সুথারের, দ্বিতীয় দিনেই জয়ের গন্ধ পাচ্ছে টিম ইন্ডিয়া

ভারত: ৫৬৪/৮ (শুভমান ১২৬, রাহুল ১০০, পন্থ ৮১, মহম্মদ সেলিম ১৪০/৬)
আফগানিস্তান: রহমত শাহ ৪৩*, হাশমতউল্লাহ শাহিদি ২০ (সুথার ২১/৩, কৃষ্ণ ২৭/২)
দ্বিতীয় দিনের শেষে ৪৫১ রানে এগিয়ে ভারত।

অভিষেক ম্যাচেই নজর কাড়লেন তরুণ স্পিনার মানব সুথার। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ে আফগানিস্তানের ব্যাটিং চাপে পড়ে যায়। প্রথম ইনিংসে ৫৬৪ রানে ডিক্লেয়ার করার পর দ্বিতীয় দিনেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়েছে ভারত। ব্যাটার ও বোলারদের দাপুটে পারফরম্যান্সে আফগানদের বিরুদ্ধে জয়ের গন্ধ পাচ্ছে টিম ইন্ডিয়া। দ্বিতীয় দিনের শেষে ১১৩ রানে ৫ উইকেট খুইয়ে ধুঁকছে আফগানিস্তান। রহমানুল্লাহ গুরবাজরা পিছিয়ে ৪৫১ রানে। 

ভারতের হয়ে টেস্ট অভিষেক হয়েছে তরুণ বাঁহাতি স্পিনার মানব সুথারের। ২৩ বছরের মানব রাজস্থানের গঙ্গানগরের ছেলে। ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে তাঁর বাড়ি। বাবা জগদীশ সুথার একজন স্কুলশিক্ষক। ছেলের ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ দেখে ১১ বছর বয়সে তাঁকে অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করান। বাবার ইচ্ছে ছিল মানব ব্যাটার হোক। কিন্তু কোচ ধীরজ শর্মা তাঁকে বাঁহাতি স্পিনার হিসাবে গড়ে তোলেন। ব্যাট হাতেও তিনি দক্ষ।

২০২৩ সালের এক দিনের বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় দলের নেট বোলার ডাক পেয়েছিলেন। এরপর থেকেই দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। তবে সাফল্যের পথ সহজ ছিল না। আইপিএলে গুজরাট টাইটান্সের সদস্য হলেও ২০২৪ সালে একটি ম্যাচও খেলার সুযোগ পাননি। ২০২৫ সালে ভারত ‘এ’ দলের হয়ে ইংল্যান্ড সফরে গিয়েও মাঠে নামতে পারেননি। তবু হাল ছাড়েননি। কোচ ধীরজ শর্মার বিশ্বাস ছিল, একদিন তাঁর ছাত্র ভারতীয় দলে সুযোগ পাবেই। অবশেষে সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে মানবের। আর অভিষেকেই জাত চেনালেন তরুণ তুর্কি।

সুথারকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত গিল। ছবি সংগৃহীত।

বাঁহাতি স্পিনারের ঘূর্ণি সামলাতে আফগান ব্যাটাররা রীতিমতো হিমশিম খেলেন। দিনের শেষে আফগানিস্তানের পাঁচ উইকেটের মধ্যে তিনটিই তুলে নিয়েছেন এই তরুণ স্পিনার। একে একে শিকার করেছেন আবদুল মালিক, রহমানুল্লাহ গুরবাজ, আফসার জাজাইয়ের উইকেট। ম্যাচের পর সুথার বলেন, “আমার লক্ষ্য ছিল সঠিক জায়গায় বল করা এবং নিজের শক্তির ওপর ভরসা রাখা। পিচ থেকে সাহায্য পাচ্ছিলাম। তাই বলের ল্যান্ডিং ঠিক রাখার চেষ্টা করেছি। মাঠে আসার পর সকালে জানতে পারি, আমি টেস্ট অভিষেক করতে চলেছি। যদিও আগের সন্ধ্যাতেই প্রস্তুত ছিলাম, কারণ সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।”

নিজের বোলিং পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, “বল ঘোরানোই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই সেটাই কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। ধারাবাহিকভাবে একই জায়গায় বল ফেলাই ছিল আমার মূল লক্ষ্য।” ভারতের হয়ে খেলার স্বপ্নপূরণ হওয়ায় আবেগও লুকিয়ে রাখেননি সুথার। তাঁর কথায়, “রনজি ট্রফি ও ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা শুরু করার সময় থেকেই ভারতের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখতাম। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে বলে আমি কৃতজ্ঞ।” অধিনায়ক শুভমান গিলের সঙ্গে দীর্ঘদিন খেলার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। “আমরা অনেক দিন ধরেই একসঙ্গে খেলছি। আমার শক্তিগুলো সম্পর্কে ভালোভাবে জানে। ও সবসময় লাইন ও লেংথ নিয়ে পরামর্শ দেয়।”

সুথারকে অভিনন্দন যশস্বীর। ছবি সংগৃহীত।

তবে শুধু বল হাতে নয়, ব্যাট হাতেও দলের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন সুথার। তাঁর ২৮ রানের ইনিংস এবং ওয়াশিংটন সুন্দরের ৫২ ভারতকে প্রথম ইনিংসে রানের পাহাড়ে বসায়। উল্লেখ্য, প্রথম দিনেই কেএল রাহুল (১০০) এবং শুভমান গিলের সেঞ্চুরি দেখেছিল ভারত। দ্বিতীয় দিন ১২৬ রানে ভারত অধিনায়ক আউট হলেও আগ্রাসী ব্যাটিং করেন ঋষভ পন্থ। তিনি আউট হন সেঞ্চুরি থেকে ১৯ রান দূরে। ভারতের রানের পাহাড়ের সামনে শুরু থেকেই চাপে পড়েন আফগান ব্যাটাররা। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ নিখুঁত লাইন ও লেংথে বোলিং করে দুই উইকেট তুলে নিয়েছেন। আফগানিস্তানের হয়ে রহমত শাহ এখনও পর্যন্ত নজর কেড়েছেন। ‘জমজমাট’ ব্যাটিংয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছেন। তবে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে প্রশ্ন, তিনি কতক্ষণ ভারতের বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে পারবেন? আরও বড় প্রশ্ন, আফগানিস্তান কি ফলো-অন এড়াতে পারবে? সেই উত্তর মিলবে ম্যাচের পরবর্তী দিনে। আপাতত দ্বিতীয় দিনের শেষে চালকের আসনে টিম ইন্ডিয়া।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker