‘চর্বি জমেছে’, ৬০ বিধায়কই ‘বিজেমূল’! মমতাদির সাথেই আছিই সাফ বার্তা মহুয়ার

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সদ্য ভাঙ্গন ধরেছে তৃণমূলে। বিধানসভার সই-কাণ্ডের পর ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসল তৃণমূল’ তৈরী হয়েছে বলে দাবি। এমন পরিস্থিতিতে লাইভ এসে একের পর এক প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন কৃষ্ণনগরের সংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)।
১৫ বছর সরকারে থেকে চর্বি জমে গেছে : মহুয়া (Mahua Moitra)
ভিডিওতে মহুয়া বলেন, ‘১৫ বছর সরকারে থাকার পর অনেক চর্বি জমে গেছে। অনেক নেতাদের এখন মনে হচ্ছে বিরোধিতা এখন আর আমাদের সুট করছে না। কে এখন বিরোধী থাকবে? কে এখন পুলিশের সাথে লড়াই করতে হবে, বিডিও আমার কথা শুনবে না, ওসি আমার কথা শুনবে না কেন এই ঝামেলায় যাব! বিজেপির সাথে আঁতাত করে নিলে লাইফটা সুবিধের হয়ে যাবে। এদিকেও খেলব ওদিকেও খেলব।
৮০ জনের জেতার পিছনে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
২০২৬ এর বাংলার বিধানসভা নির্বাচন বিজেপি পার্টি এবং কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত রাষ্ট্রীয় শক্তি প্রয়োগ করে এই বিধানসভা নির্বাচনটি পরিচালনা করেছেন। সবাই দেখেছেন কিভাবে নির্বাচন কমিশন বিজেপির কাঠপুতুল হয়ে খেলেছে। তাঁরা দেখেছেন কিভাবে CISF, CRPF ও সমস্ত কেন্দ্রীয় পুলিশ দিয়ে কিভাবে এই নির্বাচন পরিচালনা করা হল। দেখেছেন কিভাবে ২৭ থেকে ৩০ লক্ষ বৈধ ভোটার যারা খসড়া তালিকায় নথিভুক্ত ছিল তাদের তাদের বিচারাধীন বাক্সে ফেলে দিয়ে তাদের ভোট দিতে দেওয়া হয়নি, সবাই এটা দেখেছে’।
এরপর তিনি আরও বলেন, বিজেপি বলছে এটা স্বচ্ছ ও স্পষ্ট নির্বাচন হয়েছে। ঠিক আছে! ৪ তারিখ যখন ভোটের বাক্স খোলা হল তখন এই স্বচ্ছ ও স্পষ্ট নির্বাচনের রায় যদি আমরা মেনে নিই, সেটি কি ছিল? না বিজেপি পেয়েছে ২ কোটি ৯০ লক্ষ ভোট এবং তৃণমূল কংগ্রেস (কোনো বিজেমুল কংগ্রেস নয়) মমতা বান্ধোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে, তার মুখকে সামনে রেখে, নিজের হাতে আঁকা জোড়াফুল চিহ্নে ভোট পেয়েছে ২ কোটি ৬০ লক্ষ। ৪১% ভোট পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। অর্থাৎ বিজেপির সাথে ভোটার ব্যবধান মাত্র ৩০ লক্ষ। এই ছিল রায় যেটা চার তারিখের ভোটের বাক্সে পাওয়া গেল।
আরও পড়ুনঃ ‘আমায় সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে একজন মানুষ’, তৃণমূলে ভাঙনের আবহে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য বাবুল সুপ্রিয়র
যে ৮০ জন এমএলএ জিতেছেন তারা তো লড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতীক চিহ্ন নিয়ে। তারা তো বিজেমূল কংগ্রেসে লড়েনি। তারা যদি যদি আশীর্বাদে আজকে এমএলএ হয়েছে, তারা তো বিজেপির বিরুদ্ধে দেওয়া ভোটেই জিতেছে। তারা তো ভোটের পরে এটা বলতে পারে না আমরা স্বাধীন! মানুষের রায় তো আপনাদের পক্ষে যায়নি, তাহলে আপনারা রিজাইন দিয়ে নতুন করে বিজেমূল চিহ্নে দাঁড়ান। এতে কোনো প্রবলেম নেই। কিন্তু আপনি তো বলতে পারেন না যে তৃণমূল কংগ্রেসে দাঁড়িয়েছেন কারণ মানুষের রায় তো আপনাদের জন্য ছিল না। বাংলায় এমন কোনো হনুমান এখনও জন্ম নেয়নি যে বলতে পারে যে বিজেপি বিরোধী ২ কোটি ৬০ লক্ষ ভোট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ দেখে হয়নি, সেগুলো আমাদের দেখে হয়েছিল।
ভিডিওর শেষে খুব স্পষ্ট ভাবেই মহুয়া মৈত্র জানান, আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে আছি। আমরা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে এসেছি এবং বিজেপির শেষ দেখেই ছাড়ব। যে যাবার যাক দলের শুদ্ধিকরণ হোক। পরিষ্কার বোঝা যাক কে কোনদিকে আছে, বিজেপির বিরোধী নাকি বিজেমূল।




