তৃণমূলে রদবদলের পর প্রথম বড় পদক্ষেপ! দিল্লি উড়ে যাওয়ার আগে অভিষেক লিখলেন, সবচেয়ে আশঙ্কাজনক…

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের খারাপ ফল, দলের অন্দরে ভাঙন ও নেতৃত্বে রদবদলের জল্পনার মধ্যেই দিল্লি গেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এরই মধ্যে সোনারপুরে তাঁর ওপর হামলার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। দিল্লি যাওয়ার আগে সেই হামলা, নিরাপত্তা নিয়ে ছড়ানো জল্পনা এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) দিল্লি সফর ঘিরে বাড়ছে জল্পনা
শনিবার ৬ জুন দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। আগামী ৮ জুন রাজধানীতে বিরোধী জোট INDIA-র একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর এই প্রথম দিল্লি যাচ্ছেন তিনি। তাই রাজনৈতিক মহলের নজর এখন এই সফরের দিকেই।
নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা বেড়েছে। একের পর এক নেতা দল ছাড়ছেন, কেউ আবার গ্রেফতার হচ্ছেন। বিভিন্ন জায়গায় দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সম্প্রতি সোনারপুরে এক নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন অভিষেক (Abhishek Banerjee)। সেই ঘটনায় অভিষেকের জামা ছিঁড়ে যায়, চশমা ভেঙে দেওয়া হয় এবং তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়।
এরপর কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, তিনি নাকি কেন্দ্রের কাছে বিশেষ নিরাপত্তার আবেদন করেছেন। তবে দিল্লি যাওয়ার আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে সেই দাবি সরাসরি খারিজ করে দেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)। তিনি জানান, গত সাত দিনে তিনি কোনও ধরনের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেননি। এই খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন তিনি।
হামলার ঘটনায় কেন্দ্র ও রাজ্যকে নিশানা
সোনারপুরের ঘটনা নিয়ে অভিষেক (Abhishek Banerjee) বলেন, এমন একটি ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য, দুই সরকারকেই জবাব দিতে হবে। তাঁর দাবি, প্রশাসনের নজরদারির মধ্যেই এই ঘটনা ঘটেছে। শুধু নিজের ওপর হামলার প্রসঙ্গই নয়, রাজ্যের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। অভিষেকের অভিযোগ, গত এক মাসে রাজ্যে একাধিক অপরাধ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, যার অনেকগুলিরই সঠিক বিচার বা উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হওয়া উচিত। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানোর বদলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তৃণমূলে বড় সাংগঠনিক পরিবর্তন
অন্যদিকে, ভোটে খারাপ ফলের পর তৃণমূলের সংগঠনে বড়সড় রদবদল করা হয়েছে। শুক্রবার কালীঘাটে দলের জাতীয় কার্যসমিতির জরুরি বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের পর নতুন রাজ্য সভাপতি এবং যুব ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে পরিবর্তনের ঘোষণা করা হয়। দলের ভেতরে চলা ক্ষোভ ও বিদ্রোহের আবহে এই সিদ্ধান্তকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতেই নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতেই ৮ জুনের INDIA জোটের বৈঠকে যোগ দিতে চলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় আরও শক্ত করার লক্ষ্যেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সোনারপুরে হামলার ঘটনার পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল প্রকাশ্যে অভিষেকের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে তাঁদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদও জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ সরকারি অফিসে বড়সড় বদল, অগস্টের আগেই চালু হবে এই নতুন ব্যবস্থা
এখন রাজনৈতিক মহলের নজর দিল্লির বৈঠকের দিকে। কারণ, এই বৈঠকের মঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) কী বার্তা দেন এবং তার প্রভাব বাংলার রাজনীতিতে কতটা পড়ে, সেটাই আগামী দিনের বড় আলোচনার বিষয় হতে চলেছে।




