নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, তবু থামেনি স্বপ্ন! উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্টে তাক লাগল টোটো চালকের মেয়ে সুমি

বাংলা হান্ট ডেস্ক : সংসারে আর্থিক টানাপোড়েন নিত্যসঙ্গী। অনেক সময় দুবেলা খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হয় পরিবারকে। তবুও দারিদ্র্যকে হার মানিয়ে পড়াশোনায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করল মালদার সুমি পাল। ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় (Higher Secondary) ৪৭০ নম্বর পেয়ে পুরাতন মালদা ব্লকের সমস্ত স্কুলের ছাত্রীদের মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করেছে সে।
উচ্চ মাধ্যমিকে(Higher Secondary) সুমির কৃতিত্ব
এক টোটোচালকের মেয়ের এই রেজাল্টে এখন উৎসবের আবহ বাঁশহাট্টা এলাকায়। পুরাতন মালদা পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডেই সুমিদের ছোট্ট বাড়ি। বাবা উত্তম পাল দিনরাত টোটো চালিয়ে সংসার সামলান, আর মা রাখি পাল গৃহস্থালির কাজ সামলান। সীমিত রোজগারের কারণে মেয়ের জন্য আলাদা গৃহশিক্ষকের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি কোনওদিনই। তবে পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং স্কুলের শিক্ষিকাদের নিরন্তর সহায়তায় নিজের লক্ষ্যপূরণ করেছে সুমি। ফল প্রকাশের পর থেকেই খুশিতে ভরে ওঠে গোটা পরিবার। মেয়ের সাফল্যের খবর শুনে আবেগ সামলাতে পারেননি বাবা-মাও।
নিজের সাফল্য নিয়ে সুমি বলেন, “বাবা-মা অনেক কষ্ট করে আমাদের মানুষ করছেন। টাকার অভাবে প্রাইভেট পড়ার সুযোগ হয়নি, কিন্তু স্কুলের দিদিমণিরা আমায় খুব সাহায্য করেছেন। আরও ভালো ফলের আশা ছিল, তবে যা পেয়েছি তাতে আমি খুশি। ভবিষ্যতে আমি আইনজীবী হয়ে সাধারণ মানুষের সেবা করতে চাই।” মেয়ের স্বপ্নপূরণের লড়াইয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বাবা উত্তম পালও। তিনি বলেন, “সামান্য টোটো চালিয়ে সংসার চলে। কিন্তু মেয়ের স্বপ্নপূরণে আমি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব। ও আইনজীবী হতে চায়, আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করব ওকে পড়ানোর।”
সুমির এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত স্কুল কর্তৃপক্ষও। আহ্লাদমণি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুস্মিতা দাস বলেন, “পুরাতন মালদা ব্লকের মধ্যে আমাদের স্কুলের এই ছাত্রীই সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে। ওর জেদ আমাদের অবাক করেছে। স্কুলের পক্ষ থেকে আগামীতেও ওকে সবরকম সাহায্য করা হবে।”

আরও পড়ুন : ‘ঘরছাড়া’ তৃণমূল কর্মীদের ফেরাতে রাজি BJP, তবে..,শর্ত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
এলাকার কাউন্সিলর বাসন্তী রায়, কৃতী ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পাশাপাশি সুমির সাফল্যের কথা ছড়িয়ে পড়তেই প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় বাড়ছে তাঁদের বাড়িতে। প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ পরিবারের এই মেয়ের সাফল্য এখন বহু ছাত্রছাত্রীর কাছে লড়াই করে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। অভাব যে কখনও মেধার পথে বাধা হতে পারে না, সুমির এই সাফল্য যেন ফের সেই কথাই প্রমাণ করল। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং স্বপ্নের প্রতি অটুট বিশ্বাস থাকলে যে কোনও বাধাকেই জয় করা সম্ভব, সেই বার্তাই দিল মালদার এই কৃতি ছাত্রী।



