0%

প্রাণীদেহ থেকেও ছড়াচ্ছে ইবোলা! হু হু করে বাড়ছে সংক্রমণ, প্রতি আধঘণ্টায় প্রাণ হারাচ্ছেন ১ জন

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইবোলা (Ebola Virus) নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আফ্রিকার (Africa) একাধিক দেশে। গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো এবং উগান্ডায় (Uganda) ভাইরাসের সংক্রমণ ঘিরে পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংক্রমণের ধরন, ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তন এবং প্রাণীদেহ থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের সম্ভাবনা এই তিনটি বিষয়ই বিশেষজ্ঞদের নজরে রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে মৃতের সংখ্যা ২১০০ ছাড়িয়েছে। তবে এই ধরনের পরিসংখ্যান এবং ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট সংক্রান্ত দাবির ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যই চূড়ান্ত বলে ধরা হয়।

আফ্রিকায় আরও ভয়াবহ আকার নিচ্ছে ইবোলা (Ebola Virus)

ইবোলা ভাইরাসের (Ebola Virus) অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল এর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা এবং গুরুতর অসুস্থতা তৈরি করার সম্ভাবনা। সাধারণত সংক্রমিত ব্যক্তির রক্ত বা অন্যান্য শারীরিক তরলের সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রাণীদেহ থেকেও সংক্রমণের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হয়েছে। ফলে শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়ানোই যথেষ্ট নয়, ভাইরাসের প্রাকৃতিক উৎস এবং বন্যপ্রাণীর সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের বিষয়টিও নজরে রাখা জরুরি হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আফ্রিকার যে সব এলাকায় মানুষ ও বন্যপ্রাণীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বেশি, সেখানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

আরও পড়ুন: ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়! অরুণাচল প্রদেশে ধস ও হড়পা বানে মৃত্যু ৪ শ্রমিকের, নিখোঁজ ৫ সেনা জওয়ান

‘বুন্ডিবুজিও’ নামটি অবশ্য একেবারে নতুন নয়। ইবোলা ভাইরাসের একটি পরিচিত প্রজাতি হিসেবে বুন্ডিবুজিও ইবোলা ভাইরাসের উল্লেখ আগেও পাওয়া গিয়েছে। অতীতে উগান্ডা এবং ডিআর কঙ্গোয় এই প্রজাতির সংক্রমণ নথিবদ্ধ হয়েছে। তাই সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে একে নতুন কোনও ভাইরাস বা সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতি হিসেবে বর্ণনা করার আগে গবেষণার ফল এবং সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক বিষয় হলেও, সেই পরিবর্তনের ফলে আগের চিকিৎসা বা প্রতিরোধ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর থাকবে, তা নির্ভর করে নির্দিষ্ট গবেষণার ফলের উপর।

ইবোলা নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অবশ্য একটি বিষয় বারবার উঠে এসেছে—ভাইরাসের সংক্রমণকে শুধুমাত্র মানুষে-মানুষে ছড়িয়ে পড়ার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে চলবে না। ইবোলার প্রাকৃতিক পরিবেশ, বন্যপ্রাণী এবং মানুষের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও ভাইরাস প্রাণীদেহে দীর্ঘদিন টিকে থাকলে সেখান থেকে মানুষের মধ্যে নতুন করে সংক্রমণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এই কারণে আক্রান্ত অঞ্চলে নজরদারি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, সংক্রমিত ব্যক্তিদের আলাদা রাখা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Ebola Virus is taking an increasingly alarming turn in Africa.

আরও পড়ুন: ৩ মাসের জন্য পরিবর্তন! লখনউ-দিল্লি তেজস এক্সপ্রেস পেল নতুন নাম, কেন হল এমন?

ইবোলার (Ebola Virus) ক্ষেত্রে আতঙ্কের পাশাপাশি তথ্যের সঠিক যাচাইও সমান জরুরি। ভাইরাসের বিভিন্ন প্রজাতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও চিকিৎসা নিয়ে গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তাই কোনও নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে ‘কোনও প্রতিষেধক নেই’ বা আগের সব ভ্যাকসিন সম্পূর্ণ অকার্যকর—এমন দাবি করার আগে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশিকা দেখা প্রয়োজন। ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডার মতো এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং গবেষকদের সমন্বিত প্রচেষ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভাইরাসের উৎস, সংক্রমণের গতিপথ এবং জিনগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে এলেই বর্তমান পরিস্থিতির প্রকৃত ভয়াবহতা ও ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হবে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker