ফের জ্বালানির ধাক্কা! ১০ দিনে তৃতীয় বার দামবৃদ্ধি, মধ্যবিত্তের চিন্তা আরও গভীর

সবদিক নিউজ: পেট্রল ও ডিজেলের দাম আবার বাড়ল। মাত্র ১০ দিনের মধ্যে তৃতীয় বার জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে পড়লেন সাধারণ মানুষ। দৈনন্দিন যাতায়াত থেকে সংসারের হিসাব— সবেতেই বাড়তে চলেছে খরচের বোঝা। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির টানাপোড়েনের প্রভাব এবার আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল দেশের বাজারে।
শনিবার সকাল থেকে নতুন দামে কলকাতায় প্রতি লিটার পেট্রল কিনতে খরচ হচ্ছে ১১০ টাকা ৬৪ পয়সা। আগের তুলনায় দাম বেড়েছে ৯৪ পয়সা। ডিজেলের ক্ষেত্রেও স্বস্তি নেই। লিটার প্রতি ৯৫ পয়সা বৃদ্ধি পেয়ে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ৯৭ টাকা ২ পয়সা। রাজধানী দিল্লিতেও পেট্রলের দাম বেড়েছে ৮৭ পয়সা এবং ডিজেলের দাম বেড়েছে ৯১ পয়সা।
জ্বালানির এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি এখন শুধু ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারীদের সমস্যায় ফেলছে না, এর প্রভাব পড়তে পারে গণপরিবহণেও। বাস, ট্যাক্সি, পণ্য পরিবহণ— সব ক্ষেত্রেই বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ঘাড়েই এসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও এর প্রভাবে বাড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।
গত ১৫ মে এক ধাক্কায় তিন টাকা বেড়েছিল পেট্রলের দাম। তার চার দিনের মধ্যেই ফের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল। এবার নতুন বৃদ্ধির ফলে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে প্রায় পাঁচ টাকা বেড়ে গেল পেট্রলের দাম। ফলে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
এই পরিস্থিতির নেপথ্যে রয়েছে পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা। ভারত আমদানিনির্ভর হওয়ায় বিশ্ববাজারের ওঠাপড়া সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। সেই কারণেই কেন্দ্রের তরফে জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় সিএনজির দামও বেড়েছে। ফলে অটো ভাড়াও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও কলকাতায় এখনও সিএনজির নতুন মূল্যবৃদ্ধির খবর নেই। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই— এখানেই কি থামবে দাম, নাকি সামনে আরও বড় ধাক্কা অপেক্ষা করছে?



