0%

ভক্তরাই কি তারকাদের ট্রোলের মুখে ফেলছে? কী জানাচ্ছে টলিপাড়া

ফিল্ম দুনিয়ার তারকা হোক বা খেলার জগতের,নামী শিল্পপতি হোক বা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, অনুরাগীরা তারকাদের ওপর সব সময় একটু বেশিই প্রত্যাশা রাখি। তাঁরা কখন কী বলছেন, কখন কী করছেন, সব কিছুই নখদপর্ণে রাখতে চান ভক্তরা। তারকারা সেটা জানেন ও বোঝেনও, তাই সোশাল মিডিয়ার হাত ধরে নিজেদের জীবনের আয়না তুলে ধরার চেষ্টা করেন। কিন্তু অনুরাগীদের সঙ্গে তারকাদের এই সোশাল যোগাযোগ কি বিপদ ডেকে আনে? অজান্তে অনুরাগীই এই বিপদের নেপথ্যে থাকেন না তো? এই উত্তর খুঁজতেই টিভি নাইন বাংলা ডিজিটাল যোগাযোগ করেছিল টলিপাড়ার বেশ কয়েকজন তারকাদের সঙ্গে। কী বললেন তাঁরা?

অনুরাগের ছোঁয়ার মিসকা অর্থাৎ অভিনেত্রী অহনা দত্ত আগে নিয়মিত স্টেজ শো করতেন। যদিও বর্তমানে টেলি ধারাবাহিকে ব্যস্ততায় শো করার পরিমাণ কমেছে। শো করার সময় ফ্যানদের অনেক রকমের ডিমান্ডের সম্মুখীন হন অভিনেত্রী । অহনা বলেন – ” সব কিছুরই একটা বাউন্ডারি থাকে , সেই বাউন্ডারি থেকে অনুরাগীরা বেরিয়ে গেলে আমার মনে হয় যদি তাঁদের একটু বুঝিয়ে বলা যায় তাহলে ট্রোলের মতো সমস্যা হবে না। না হলে চাপ আছে।” বাউন্ডারির বাইরে না বেরিয়ে ফ্যানদের সব আশা পূরণ করার চেষ্টা করেন অভিনেত্রী। কারণ তার মতে ফ্যানরাই স্টার বানায়। তাই তাঁদের কিছু চাহিদা থাকবেই। এক্ষেত্রে অবসাদ আসার কারণ দেখেন না তিনি। বাউন্ডারি মেনে চলেন বলে সমস্যার সম্মুখীন হননি অহনা।

পর্দায় দেখা জুটি পছন্দ হলেই তাদের বাস্তবে জুটি হিসাবে দেখতে চান ভক্তরা । পছন্দের তারকার জীবনসঙ্গীকে পছন্দ না হলেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ট্রোলের বন্যা,চরিত্রহনন। যা তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনের শান্তিতে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। অভিনেত্রী অনামিকা চক্রবর্তী এই বিষয়ে বলেছেন গত ছয় বছরে তিনি ফেস করেছেন অনেক কিছুই। ৬ বছর আগে সোশ্যাল মিডিয়ার এত হাইপ না থাকার জন্য এই সমস্যা হত না বলে মনে করেন অভিনেত্রী। উদয় প্রতাপ সিংয়ের সঙ্গে বিয়ে নিয়ে, ফিগার নিয়ে বহু সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন অভিনেত্রী। এখানে আকাশ নীল চলাকালীন বহু ফ্যান চেয়েছিলেন শন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অভিনেত্রীর প্রেম হোক। কিন্তু তা না হওয়ায় ফ্যানদের মন ভেঙে যায়। অনামিকার কথায় “পরে ফ্যানরা বুঝেছে রিল আর রিয়েল এক হয় না।” বহু মানুষ শুধু অ্যাটেনশন পাওয়ার জন্য ট্রোল করেন বলে মনে করেন অভিনেত্রী। আগে ট্রোল নিয়ে খারাপ লাগলেও এখন একেবারেই গায়ে মাখেন না অভিনেত্রী। তিনি বলেন – “আমি যদি রিয়াক্ট করি নেগেটিভ কমেন্টসে তাহলে সেটা আরও ওভার হাইপ হবে, কিন্তু যে কমেন্ট করছে সে দিনের শেষে শান্তিতেই থাকে,হাসাহাসি করে। ওটা নিয়ে বেশি ভাবলে আমারই ক্ষতি হবে। তাই আমি এখন এগুলোকে ওভারলুক করে যাই।” খারাপ কমেন্ট পেলেও ভালো কমেন্টে মোটিভিটেড হন অভিনেত্রী। যাতে তিনি আরও এগিয়ে যেতে পারেন কেরিয়ারে।

ইদানিং দেখা গিয়েছে, শহরের মধ্যে বা শহরের বাইরে স্টেজ শো করতে গিয়ে নানা সময়ই বিপাকে পড়ছেন বিনোদন দুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত মানুষরা। সম্প্রতি সঙ্গীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী, লগ্নজিতার ঘটনা রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছিল। দর্শকদের অনুরোধে গান , নাচ না জানলেও করতে হয়। সেই দর্শকরাই অভিনেতা,অভিনেত্রীদের পারফরম্যান্স পছন্দ না হলে কুরুচিকর মন্তব্য়ে বিদ্ধ করতেও ছাড়েন না।

কয়েকদিন আগে এইরকম সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন অভিনেত্রী নন্দিনী দত্ত। অভিনেত্রী বলেন, “এখন ট্রোলিং নেই, এখন রীতিমতো মানুষকে হেনস্থা করা হয়, ট্রোলিং তাও নেওয়া যায়, কিন্তু আমার মনে হয় যখন প্রথম আমার সঙ্গে ট্রোলিং শুরু হয়েছিল, তখন সত্যি অসুবিধা হয়েছিল মিথ্যে কথা বলব না, কুল সাজবো না, যে আমার কিছু যায় আসে না। আমার মনে হয়েছিল আমি তো সত্যি ভাল গান গাইতে পারি না, আমি অনুরাগীদের অনুরোধে গেয়েছি তাই খারাপ হয়েছে, তারপর আমার এটাও মনে হয়েছে শো যখন করছি তখন একটু গান শিখে গাওয়া ভাল।” তবে নন্দিনী এও জানান, সেই সময় রোজ সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে নেগেটিভ কমেন্ট খারাপ প্রভাব ফেলেছিল তাঁর মনে। জনপ্রিয় এক ইউটিউবার অভিনেত্রীকে নিয়ে ট্রোল করে ভিডিও বানিয়ে ছিলেন সেই সময়। নন্দিনী আরও বলেন, “আমার এখন মনে হয় এটা ওদের কাজ, আমাদের ব্যবহার করে, আমাদের ট্রোল করে ওদের টাকা রোজগার হয়, ওরা সারভাইব করতে পারে। আমাদের ফেসটা ওদের কাছে ইম্পর্ট্যান্ট তাই জন্য ভাল হোক মন্দ হোক লিখছে, ওটা ওদের রোজগারের পথ, তাই এটা ভেবে আমার আর ভালতেও অসুবিধা হয় না খারাপেও অসুবিধা হয় না।” তবে এখন অন্য কাউকে ট্রোল হতে দেখলেও রিপোর্ট করেন অভিনেত্রী।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker