মালিকদের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের অধিকারী ভাড়াটেরাও! রেলের রিপোর্টের পর বড় নির্দেশ হাইকোর্টের

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রেলের জমিতে বসবাসকারী ভাড়াটেদের জন্য স্বস্তি। ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল রেল মন্ত্রক। তাঁরা জানিয়েছে, সরকারি অথবা রেল প্রকল্পের (Railway Project) জন্য যদি জমি অধিগ্রহণ করা হয়, তাহলে জমির মূল মালিকের পাশাপাশি সেখানে ব্যবসা করা ও বসবাসকারী ভাড়াটেদেরও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। রেলের এই রিপোর্টের প্রেক্ষিতে বড় নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
কী নির্দেশ দিল হাইকোর্ট? | (Calcutta High Court)
সিঙ্গুরের একটি মামলায় ভাড়াটিয়াদের ক্ষতিপূরণ সম্বন্ধে নিজেদের আইনি অবস্থান স্পষ্ট করেছে রেল মন্ত্রক। তাঁরা ও তাঁদের আইনজীবীরা আদালতে একপ্রকার মেনে নেন, প্রকল্পের জন্য অধিগৃহীত জমিতে থাকা যে কোনও ব্যক্তি আর্থিক ক্ষতিপূরণের যোগ্য।
আরও পড়ুনঃ মামলা এগিয়ে নিয়ে যেতে চান না বিচারপতি! মুখ্যমন্ত্রীর করা পুরনো মামলা খারিজ করল হাইকোর্ট
একইসঙ্গে এই জটিলতার জন্য রাজ্যের দিকে আঙুল তুলেছে রেল মন্ত্রক। তাঁদের দাবি, ২০১৩ সালের নতুন কেন্দ্রীয় আইন অনুসারে টাকা দিতে তৈরি ছিল রেল। তবে ভাড়াটেদের কত টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে তা নির্ধারণের দায়িত্ব ছিল রাজ্য সরকারের। তবে তৎকালীন রাজ্য সরকার সেই হিসাব নির্দিষ্ট করে দেয়নি। সেই কারণে এই জটিলতা সৃষ্টি হয়।
এদিনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট জানায়, এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর। তার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ভাড়াটিয়াদের ক্ষতিপূরণের নির্দিষ্ট হিসাব দিতে হবে রাজ্যকে। ততদিন অবধি উচ্ছেদের উপর স্থগিতাদেশ বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে আদালত।
প্রসঙ্গত, ডানকুনি থেকে লুধিয়ানা অবধি ১৮৫৬ কিমি দীর্ঘ ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর নির্মাণের জন্য সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণ করেছিল রেল। নিয়ম অনুযায়ী জমির মালিকদের জমির ন্যায্য দামের পাশাপাশি আরও ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। তবে তা সত্ত্বেও জমি পুরোপুরি ফাঁকা না হওয়ায় সম্প্রতি সেখানে ব্যবসা করা বসবাসকারী মানুষদের উচ্ছেদের নোটিশ পাঠায় রেল। এরপর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই জমিতে বসবাসকারী ৮টি ভাড়াটিয়া পরিবার।

গত জুন মাসের শুনানিতে মামলাকারীদের আইনজীবী আদালতে জানান, ২০১৩ সালের কেন্দ্রীয় জমি অধিগ্রহণ আইন অনুসারে সরকারি প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হলে জমির মালিকের পাশাপাশি সেখানে থাকা ভাড়াটিয়াও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী। ২০২২ সালে হাইকোর্ট এই নিয়ে একটি নির্দেশ দিয়েছিল। তবে এখনও তা কার্যকর হয়নি।
এদিন এই মামলার শুনানিতে ভাড়াটিয়াদের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে নিজেদের আইনি অবস্থান স্পষ্ট করল রেল মন্ত্রক। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর ফলে আগামীদিনে সংশ্লিষ্ট জমিতে বসবাসকারী ভাড়াটিয়াদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পথ আরও সুগম হল।




