কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন পদক্ষেপ মমতার, ED-র বিরুদ্ধে থানায় ‘চুরি’র অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বৃহস্পতিবার দিনভর এক নাটকীয় পরিস্থিতির সাক্ষী থাকলেন গোটা রাজ্যবাসী। সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে ভোটকুশলী সংস্থা I-PAC- অফিসে যখন ইডি তল্লাশি চালাচ্ছিল, সেই সময় সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দীর্ঘক্ষণ তিনি I-PAC-এর অফিসেই উপস্থিত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিধায়ক সুজিত বসু এবং বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী।
এদিন শুধু আইপ্যাকের অফিস নয়, সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতেও যান মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। ইডির তল্লাশি ঘিরে গোটা ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তল্লাশির সময় ইডি তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি ল্যাপটপ ও মোবাইলে থাকা তথ্যও বেআইনিভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)
এই ঘটনার পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরাসরি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে ইডির তল্লাশি সংক্রান্ত ঘটনায় শেক্সপীয়র সরণি থানায় মোট দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলার অভিযোগকারী খোদ মুখ্যমন্ত্রী। অন্য মামলাটি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে দায়ের করেছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী চুরি, জোর করে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ এবং ইলেকট্রনিক প্রমাণ চুরির ধারায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। লাউডন স্ট্রিট এলাকা শেক্সপীয়র সরণি থানার অধীন হওয়ায় সেখানেই এই অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, আইপ্যাকের অফিস সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে হওয়ায় বিধাননগর কমিশনারেটের ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় আলাদা করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই দুটি অভিযোগেই কোনও ইডি অফিসার বা সিআরপিএফ জওয়ানের নাম উল্লেখ করা হয়নি। অর্থাৎ অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ‘চাপে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, সান্ত্বনা দেওয়া দরকার’, I-PAC কাণ্ডে মমতাকে তীব্র কটাক্ষ বিজেপির, আর কী বললেন শমীক?
মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) এই পদক্ষেপে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিরোধীরা। বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “একজন ব্যবসায়ীকে বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রী নিজে FIR করছেন। নিজের পদের সম্মান রাখা উচিত।” তাঁর দাবি, হেরে যাওয়ার ভয়েই এই পদক্ষেপ। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “এটা দুর্ভাগ্যজনক। আর কাউকে দিয়ে এফআইআর করানো গেল না বলেই মুখ্যমন্ত্রী নিজে অভিযোগ দায়ের করেছেন।”



