পর্যাপ্ত খেয়েই রাতে ঘুমোতে যাচ্ছেন, মাঝরাতে ঘুম ভাঙলেই কেন খাইখাই ভাব? – সবদিক

পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার খেয়ে রাতে ঘুমোতে যাচ্ছেন। তারপরও মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। ঘুম ভেঙে গেলেই মুখরোচক খাবার বা মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে হচ্ছে। কেন হচ্ছে এরকম? বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, মাঝরাতে ঘুম ভেঙে মুখরোচক খাবার বা মিষ্টি খেলে শুধু স্থুলতার সমস্যাই হয় না মস্তিষ্কের কার্যকারিতাও বিঘ্নিত হয়। ঘুমের সমস্যা হয়। পরের দিনে কাজকর্মে মনঃসংযোগ বিঘ্নিত হয়।
স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পর্যাপ্ত পরিমাণে খেয়ে ঘুমোনোর পরও মাঝরাতে যাদের ঘুম ভেঙে গেলেই খিদে পায় তাদের পেছনে মূল কারণ হল জৈবিক ক্রিয়া। মাঝরাতে কী খাচ্ছেন আর কতটা পরিমাণে খাচ্ছেন সেটা সরাসরি প্রভাব ফেলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতার ওপর। মস্তিষ্ক কীভাবে বিশ্রাম নিচ্ছে, কীভাবে ক্ষতি সামলাচ্ছে, কীভাবে রিসেট করছে তা ঠিক হয়ে যায়। যত রাতে ঘুমোতে যাচ্ছেন আর দেরিতে খাবার খাচ্ছেন তত ghrelin হরমোনের নিঃসরণ হয়। এই হরমোনের নিঃসরণ খিদে বাড়িয়ে তোলে। অন্যদিকে, leptin হরমোনের নিঃসরণ কমে। এই হরমোনের নিঃসরণ মস্তিষ্কে সঙ্কেত পাঠায়, অনেক হয়েছে খাওয়া এবার থামো। ক্লান্তি ও মানসিক উদ্বেগ ইম্পাল্সকে বা ইচ্ছাশক্তিকে দুর্বল করে দেয়। নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেলে। মিষ্টি, নোনতা, ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রতি আসক্তি জন্মায়।
চিকিৎসকদের মতে, রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে দেরিতে খাবার খেলে মস্তিষ্ক ‘day mode’ এ চলে যায়। মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমে যায়। এই হরমোনের নিঃসরণ ঘুমের ভাব বাড়ায়। শরীরের জৈবিক ঘড়ি বিঘ্নিত হয়। ঘুমের সমস্যা হয়। শরীর ফুলে যায়। মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বিঘ্নিত হয়। মনঃসংযোগ, স্মৃতিশক্তি, আবেগ নিয়ন্ত্রণ কমে যায়। ঘুম কম হলে সকালে ক্লান্তি লাগে। কাজকর্মে এনার্জি মেলে না। তাই রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে মিষ্টি খাবার, আল্ট্রা প্রসেস করা মুখরোচক খাবার, ফাস্ট ফুড, কৃত্রিম শর্করা দেওয়া ঠান্ডা পানীয় খাবেন না। এতে আচমকা রক্তের শর্করার মাত্রা বাড়ে। গ্লুকোজের আচমকা কমা ও বাড়া ঘুমের সমস্যা ডেকে আনে। মুখরোচক ভাজাভুজি খাবার হজম করতে দেরি হয়। এতে পেটের গন্ডগোল হয়। ঘুম আসতে চায় না। ঘুমের সমস্যা হয়।
– বিজ্ঞাপন –
রাতে কী খাবেন
ম্যাগনেশিয়াম, ট্রিপোফ্যান, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সমৃদ্ধ কলা, ইয়োগার্ট, আমন্ড বাদাম, একমুঠো চিনে বাদাম খান। এতে ঘুম ভালো হয়।



