‘‘সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করলে রেয়াত নয়!’’ আসানসোলের ঘটনায় সোজা ‘যোগী মডেলে’ অ্যাকশনের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

সবদিক নিউজ: ধর্মীয় স্থানে লাউডস্পিকার ব্যবহারের সরকারি বিধিনিষেধের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে আসানসোলের জাহাঙ্গির মহল্লা পুলিশ ফাঁড়িতে তাণ্ডব ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটল। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের অনুসৃত জিরো টলারেন্স মডেলকে হাতিয়ার করে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিলেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট বা আইন অমান্যকারীদের যে কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না, তা তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে আয়োজিত জেলা প্রশাসনের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন ডায়মন্ড হারবারের সাগরিকা সরকারি টুরিস্ট হলে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার প্রশাসনিক ও পুলিশি কর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক এবং ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষ হতেই সাংবাদিক সম্মেলনে আসানসোলের পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ফাঁড়িতে ভাঙচুরের ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
আসানসোলের এই ঘটনায় নতুন কেন্দ্রীয় আইন ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রয়োগের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভাঙচুরের ফলে সরকারি সম্পত্তির যে ক্ষতি হয়েছে, তার সমস্ত আর্থিক মূল্য অভিযুক্তদের কাছ থেকেই আদায় করা হবে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ যেভাবে যে কোনো আইনবিরুদ্ধ কাজে কঠোর প্রশাসনিক মনোভাব দেখান এবং বুলডোজার অ্যাকশনের পথে হাঁটেন, বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীও সেই একই পথ অনুসরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি সাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, কোনো সরকারি জিনিসে হাত দেওয়া বা ক্ষয়ক্ষতি করা বরদাস্ত করা হবে না, বিশেষ করে পুলিশের ওপর কোনো আঘাত এলে প্রশাসন ছেড়ে কথা বলবে না।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বিবৃতির আগে এদিন আসানসোলের ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, রাজ্যে এখন থেকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অত্যন্ত কঠোরভাবে লাগু করা হবে। কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের দোহাই দিয়ে জনমানসের অসুবিধা করা বা রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। শব্দদূষণের নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে জোরে মাইক বা লাউডস্পিকার বাজানো যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান এবং পুলিশকে আর ঠুঁটো জগন্নাথ করে রাখা হবে না। বর্তমানে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এই ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের চিহ্নিত করার কাজ চালাচ্ছে পুলিশ এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে বিশাল পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।



