উত্তর ২৪ পরগনায় ভরাডুবির দায় নিয়ে ইস্তফা কাকলির, নাম না করে আইপ্যাককে নিশানা

সবদিক নিউজ: পশ্চিমবঙ্গের ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিশেষ করে বারাসত, ব্যারাকপুরসহ উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সিংহভাগ আসনেই শাসক দলকে পরাজয় স্বীকার করতে হয়েছে। এই ভরাডুবির আবহেই এবার সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন দলের দীর্ঘদিনের প্রবীণ নেত্রী তথা সাংসদ ড. কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বারাসত সাংগঠনিক জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি জেলার এই নির্বাচনী ব্যর্থতার নৈতিক দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন, তবে একই সঙ্গে নাম না করে দলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-এর ভূমিকার দিকেও আঙুল তুলেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
কাকলি ঘোষ দস্তিদার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ সহযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। বারাসত কেন্দ্র থেকে টানা তিনবারের সাংসদ হওয়ার পাশাপাশি দলের মহিলা উইংয়ের সভানেত্রী এবং বারাসত জেলার সাংগঠনিক প্রধান হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। লোকসভাতেও তৃণমূল সুপ্রিমো তাঁকে দলের মুখ্য সচেতক বা চিফ হুইপের মতো অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ পদে বসিয়েছিলেন। তবে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে দলের এই চরম পরাজয়ের পর শীর্ষ নেতৃত্ব প্রথম কোপ ফেলে তাঁর ওপর। লোকসভার চিফ হুইপ পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় শ্রীরামপুরের বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
নেতৃত্বের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে যে তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও অভিমানী হয়ে পড়েছিলেন, তা সামাজিক মাধ্যমে তাঁর একটি পোস্টেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। পদ হারানোর পর তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন যে, দলের প্রতি গত চার দশকের নিঃস্বার্থ আনুগত্যের যোগ্য পুরস্কার তিনি পেলেন। এরপরই বারাসত জেলা সভাপতির পদ থেকে তাঁর এই ইস্তফা দেওয়ার ঘটনাটি দলের অন্দরের ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে তুলল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী পরাজয়ের দায় এবং লোকসভার পদ হারানোর ক্ষোভ—এই দুইয়ের জেরেই শেষ পর্যন্ত জেলা নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন বারাসতের এই প্রবীণ সাংসদ।



