0%

‘এক দেশ এক আইন’- কার্যকরীর পথে আরও এক বিজেপি শাসিত রাজ্য, অসমে পাশ হল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল

সবদিক নিউজ:এবার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড পাশ হল অসম (Assam) বিধানসভায়। উত্তরাখণ্ড এবং গুজরাতের পর দেশের তৃতীয় রাজ্য হিসেবে অসম বিধানসভায় পাশ হলো বহুচর্চিত ইউসিসি বিল। বুধবার দীর্ঘ বিতর্ক, বাদানুবাদ এবং তুমুল হট্টগোলের মধ্যেই শাসক জোট NDA-র সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিলটি গৃহীত হয়। এই আইন কার্যকর হলে ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, খোরপোশ এবং লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে গোটা রাজ্যে একটি অভিন্ন আইনি কাঠামো চালু হবে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই সিদ্ধান্তকে “নারীর মর্যাদা ও অধিকারের পক্ষে ঐতিহাসিক সংস্কার” বলে উল্লেখ করেছেন। বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “রেশন বা গ্যাসের দাম বাড়তে-কমতে পারে, কিন্তু কোনও মহিলার সম্মান একবার নষ্ট হলে তা আর ফিরে আসে না।”

অসমে (Assam) পাশ হল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল

নতুন বিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত। বিল অনুযায়ী, প্রথম স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রেও কঠোর বিধি আনা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষ যদি লিভ-ইন সম্পর্কে থাকেন, তবে সেই সম্পর্ক প্রশাসনের কাছে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক হবে। নিয়ম ভাঙলে তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের দাবি, এর ফলে নারীদের আইনি সুরক্ষা আরও জোরদার হবে এবং সম্পর্ক সংক্রান্ত বিরোধ বা প্রতারণার ঘটনা কমবে।

 ভারতের কাছে IRGC-র উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর আর্জি নেতানিয়াহুর, ইরান-ইজরায়েল টানাপোড়েনে কূটনৈতিক দোলাচলে দিল্লি

এই বিলের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সম্পত্তিতে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা। নতুন আইনে পুত্র এবং কন্যাসন্তান উভয়েই পৈতৃক সম্পত্তিতে সমান অংশ পাবেন। একইসঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে সব ধর্মের মহিলাদের জন্য সমহারে খোরপোশ বা অ্যালিমনির আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। তবে রাজ্যের তফশিলি উপজাতি বা জনজাতিদের নিজস্ব সামাজিক রীতি এবং ঐতিহ্য বজায় রাখতে তাদের এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, আদিবাসী সমাজের সংস্কৃতি ও স্বতন্ত্র পরিচয় রক্ষা করতেই এই ছাড় দেওয়া হয়েছে।

বিধানসভায় বিলটি পাশ হওয়ার সময় প্রবল বিক্ষোভ দেখায় বিরোধী দল কংগ্রেস এবং AIUDF। বিরোধী দলনেতা ওয়াজেদ আলি চৌধুরী অভিযোগ করেন, বর্তমানে প্রচলিত আইনে বাল্যবিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ বা ভরণপোষণের মতো বিষয়গুলি নিয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। তাঁর দাবি, নতুন বিল মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নির্বাচনের আগে মেরুকরণের রাজনীতি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। AIUDF বিধায়কেরাও বিলটিকে সংবিধানের ধর্মীয় স্বাধীনতার নীতির পরিপন্থী বলে দাবি করেন। এর জেরে অধিবেশন কক্ষে একাধিকবার উত্তেজনা তৈরি হয় এবং স্লোগান-বিক্ষোভে কার্যত সরগরম হয়ে ওঠে অসম বিধানসভা।

Uniform Civil Code Bill Passed in Assam

 শনিবার থেকেই রাজ্যে মিলবে ফ্রি সার্ভাইক্যাল ক্যানসার টিকা! কারা পাবেন, জানুন নিয়ম

অন্যদিকে বিজেপি এবং NDA শিবিরের দাবি, এই আইন সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে এক বড় পদক্ষেপ। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “এই বিল কোনও ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, এটি নারীদের অধিকার রক্ষার জন্য।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অসমে (Assam) ইউসিসি পাশ শুধু প্রশাসনিক বা আইনি সিদ্ধান্ত নয়, বরং জাতীয় রাজনীতিতেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের রাজনৈতিক সমীকরণে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে দেশের অন্যান্য রাজ্যেও ইউসিসি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক এবং রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker