সোশ্যাল মিডিয়ায় আদালত অবমাননা! চার সপ্তাহে রিপোর্ট দিতে হবে ডিজিকে, বলল হাই কোর্ট

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক নেতা, অভিনেতা বা খেলোয়াড়দের নিয়ে নানা মন্তব্য নতুন কিছু নয়। কিন্তু সম্প্রতি বিচারক এবং বিচারব্যবস্থাকে নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য, কটূক্তি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ঘটনা বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। এই ধরনের পোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্য পুলিশের কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম বা এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর) আছে কি না, তা জানতে চেয়েছে আদালত।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আদালত অবমাননাকর পোস্ট হাই কোর্টের (Calcutta High Court) পর্যবেক্ষণ
স্বামী প্রদীপ্তানন্দ ওরফে কার্তিক মহারাজের একটি মামলার শুনানির সময় বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। শুনানিতে জানানো হয়, ইউটিউবে এমন কিছু ভিডিও ছড়িয়েছে যেখানে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) একটি বেঞ্চ এবং বিচারপতিদের উদ্দেশ্য করে কটাক্ষ করা হয়েছে।
এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত বলেন, এমন কিছু ভিডিও রয়েছে যেখানে এমন ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, যে দিন ওই বেঞ্চ বসেনি, সেদিন নাকি আড়ালে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আদালতের (Calcutta High Court) মতে, এই ধরনের বক্তব্য শুধু বিভ্রান্তিকরই নয়, বিচারপতিদের সম্পর্কে মানহানিকর এবং আদালত অবমাননাকরও হতে পারে।
আদালত (Calcutta High Court) আরও জানায়, কিছু ভিডিওর বিষয়বস্তু যথেষ্ট উদ্বেগের। তাই বিচারক এবং বিচার প্রক্রিয়াকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই ধরনের পোস্টের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
শুধু এই একটি ঘটনা নয়, সাম্প্রতিক সময়ে নিয়োগ দুর্নীতি মামলা, আর জি কর-কাণ্ডসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায়ের পরও বিচারক ও বিচারপতিদের নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা কটূক্তি এবং সমালোচনা দেখা গিয়েছে বলে আদালতের পর্যবেক্ষণ।

আরও পড়ুনঃ বেরোলেই মারবে জনতা! আজ কালীঘাটে মমতার ডাকা বৈঠক এড়াতে চাইছেন একাধিক তৃণমূল বিধায়ক
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে চার সপ্তাহের মধ্যে একটি রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। সেই রিপোর্টে জানাতে হবে, আদালত অবমাননাকর, মিথ্যা বা আপত্তিকর পোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কোনও এসওপি রয়েছে কি না। পাশাপাশি, এই ধরনের কনটেন্ট সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরানোর কোনও ব্যবস্থা আছে কি না, সেটিও উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ২২ জুন।




