Sayoni Ghosh Mala Roy Join TMC Rebel MP Group Delhi

সবদিক নিউজ: লোকসভায় আদি তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দল এবার আক্ষরিক অর্থেই খণ্ডবিখণ্ড হওয়ার মুখে। দিন দুয়েক আগে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে শতাব্দী রায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে তৃণমূলের যে ‘বিদ্রোহী ব্লক’ তৈরি হয়েছিল, সেখানে ভিড় কমার বদলে প্রতি মুহূর্তে রকেট গতিতে বাড়ছে। অন্তত বিদ্রোহীদের দাবি তেমনটাই। আর এই মহাবিপ্লবের মাঝেই এবার যে নামগুলি সামনে আসছে, তা শুনে কালীঘাটের অন্দরমহলে কার্যত ভূমিকম্প শুরু হয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের বহিষ্কৃত মুখপাত্র ঋজু দত্তর এক সোশাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে, মমতার অত্যন্ত বিশ্বস্ত মালা রায়, যুবনেত্রী সায়নী ঘোষ এবং আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহাও এবার ‘বিদ্রোহী’দের খাতায় নাম লেখাতে চলেছেন।
মালা-সায়নীর বিদ্রোহ, অভিষেকের সংগঠনে চরম ধাক্কা
এই জল্পনা সত্যি হলে তা হবে মমতা ও অভিষেকের জন্য সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত ধাক্কা। দক্ষিণ কলকাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রধান পীঠস্থান এবং খাসতালুক হিসেবে পরিচিত। সেখানে নিজের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মুখ মালা রায়কে টিকিট দিয়েছিলেন নেত্রী। এমনকি দিনকয়েক আগে দলে বিদ্রোহ রুখতে যে নতুন কমিটি গড়া হয়েছিল, সেখানেও মালা রায়কে মহিলা তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রী করা হয়েছিল।
অন্যান্য চমকের মধ্যে সবচেয়ে বড় নাম যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যাকে বরাবর নিজের কোর টিমের সেনাপতির মতো সম্মান দিয়েছেন এবং যাকে কদিন আগেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যুব সভানেত্রীর পদে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেন, সেই সায়নী ঘোষও নাকি এবার দিল্লির বিদ্রোহী চিঠিতে সই করতে চলেছেন। সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন ‘বিহারীবাবু’ শত্রুঘ্ন সিনহাও।

সংখ্যাটা কত? দলত্যাগ বিরোধী আইনের খাঁড়া কি এড়ানো যাবে?
রাজনৈতিক অলিন্দের অন্দরের খবর, এই মুহূর্তে লোকসভায় তৃণমূলের মোট ২৮ জন সাংসদের মধ্যে বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখানো সাংসদের সংখ্যা ২২ থেকে ২৩ পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। যদিও সরকারি নথিতে বা চিঠিতে এ পর্যন্ত সই করেছেন ১৯ জন। বাকিরা ভারচুয়ালি এবং ব্যক্তিগত স্তরে এই ব্লককে সমর্থন জানিয়েছেন।

ভারতের সংবিধানের দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-Defection Law) অনুযায়ী, কোনও দলের সংসদীয় অংশ ভাঙতে গেলে অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন হয়। তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ হতে গেলে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ১৯। অর্থাৎ, বিদ্রোহীদের বর্তমান যা সংখ্যা, তাতে তাদের সংসদীয় পদ খারিজ হওয়ার বা দলত্যাগ বিরোধী আইনে পড়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই।
মমতার পাশে মাত্র ৫ জন! স্পিকারের স্বীকৃতির অপেক্ষা
পরিস্থিতি যা, তাতে দিল্লির সংসদ ভবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এখন সাকুল্যে ৬ জন সাংসদ অবশিষ্ট রয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, কীর্তি আজাদ এবং মহুয়া মৈত্র। ফলে লোকসভায় সংখ্যার বিচারে আসল তৃণমূলের তকমা এখন বিদ্রোহীদের হাতেই যেতে চলেছে। দিল্লির অলিন্দে জোর গুঞ্জন, আগামী দু’-একদিনের মধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এই নতুন বিক্ষুব্ধ ব্লককে সরকারিভাবে স্বাধীন বিরোধী গোষ্ঠী বা নতুন দল হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারেন। আর তেমনটা হলে, জাতীয় রাজনীতিতে সংসদীয় দল হিসেবে তৃণমূলের অস্তিত্ব যে খাদের কিনারায় চলে যাবে, তা বলাই বাহুল্য।



