৮০ তম জন্মদিনেই ট্রাম্পকে খুনের ছক! হোয়াইট হাউসে বানচাল ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) ৮০তম জন্মদিনকে কেন্দ্র করে হোয়াইট হাউসে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার এক চাঞ্চল্যকর ষড়যন্ত্রের খবর সামনে এসেছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই দাবি করেছে, প্রেসিডেন্টের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের দিনই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যদিও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগেভাগেই অভিযানে নেমে পুরো ষড়যন্ত্র বানচাল করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং গোপন যোগাযোগের তথ্য উদ্ধার হয়েছে। তবে এই ঘটনায় মার্কিন প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি কতটা প্রকাশ করা হয়েছে, তা নিয়ে এখনও নানা জল্পনা রয়েছে।
৮০ তম জন্মদিনেই ট্রাম্পকে (Donald Trump) খুনের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার ৫:
সূত্রের খবর, গত ১৪ জুন ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) জন্মদিন। সেই উপলক্ষে হোয়াইট হাউসে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, তাঁর স্ত্রী এবং একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ওই দিনকেই হামলার জন্য বেছে নিয়েছিল অভিযুক্তরা। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, প্রথমে বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন ব্যবহার করে হোয়াইট হাউসের উত্তর দিক লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল। এর ফলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে আতঙ্ক এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হত। সেই সুযোগেই স্নাইপারদের মাধ্যমে গুলিবর্ষণ এবং মূল ফটক দিয়ে অনুপ্রবেশের ছক কষা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুন: ১ কাপ চাল দিলে ডাল কতটা? ‘পারফেক্ট’ খিচুড়ি বানানোর এটাই সিক্রেট টিপস
গোয়েন্দা সূত্র আরও জানিয়েছে, হামলাকারীদের প্রধান লক্ষ্য ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শুধু প্রেসিডেন্ট নন, তাঁদের সম্ভাব্য টার্গেটের তালিকায় ছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কও। যদিও এই তথ্যের স্বতন্ত্র সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনও সামনে আসেনি। এফবিআইয়ের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আগেভাগেই এই ষড়যন্ত্রের খবর পাওয়া যায়। এরপরই বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং সম্ভাব্য হামলার সমস্ত প্রস্তুতি ভেস্তে দেওয়া হয়। ফলে বড় ধরনের নিরাপত্তা বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে আরও কিছু উদ্বেগজনক তথ্য। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ইলেকট্রনিক ডিভাইসে একাধিক ‘এনক্রিপ্টেড’ বা সাংকেতিক বার্তা পাওয়া গিয়েছে। সেই বার্তাগুলিতে হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন অংশের মানচিত্র, সম্ভাব্য পালানোর পথ, নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ এবং হামলার পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা ছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। এছাড়া অত্যাধুনিক অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং ড্রোন পরিচালনার সরঞ্জামও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার মতে, হামলার প্রস্তুতি দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল এবং এতে সুসংগঠিত পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলছে।

আরও পড়ুন: ‘পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে প্রাণ গিয়েছে ভারতীয়দেরও’, জি-৭ সামিটে ট্রাম্পের পাশে বসেই কড়া প্রতিক্রিয়া মোদীর
এই ঘটনার পর হোয়াইট হাউস ও মার্কিন নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রনেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও, হোয়াইট হাউসের মতো উচ্চ সুরক্ষিত স্থানে হামলার পরিকল্পনা সামনে আসা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এফবিআই জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনও হুমকি কার্যকর হওয়ার আগেই প্রতিহত করা যায় (Donald Trump)।




