মোবাইল অ্যাপে থমকে যাচ্ছে টোটো! ভাইরাল ভিডিওর জেরে প্লে স্টোর থেকে BAT-BMS সরানোর নির্দেশ কেন্দ্রের

সবদিক নিউজ:চিনা অ্যাপের মাধ্যমে দূর থেকে ই-রিকশা (E-Rickshaw) বা টোটো বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একাধিক ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি কেন্দ্র সরকারের নজরে আসে। ভিডিওগুলিতে দেখা যায়, স্মার্টফোনে একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহার করে চলন্ত ই-রিকশার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে এবং মুহূর্তের মধ্যে সেটিকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনাকে জননিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করছে কেন্দ্র। সেই কারণেই দ্রুত পদক্ষেপ করে গুগল প্লে স্টোর এবং অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে BAT-BMS নামে বিতর্কিত অ্যাপটি অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু একটি নয়, একই ধরনের আরও একটি অ্যাপের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
দূর থেকেই ই-রিক্সা (E-Rickshaw) বন্ধ করে দেওয়া চিন অ্যাপের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের
শনিবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের সচিব এস. কৃষ্ণ। তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরেই দুটি অ্যাপের কার্যকলাপ সরকারের নজরে ছিল। প্রাথমিক তদন্তের পরই সংশ্লিষ্ট অ্যাপগুলি প্লে স্টোর থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন অ্যাপ স্টোর পরিচালনাকারী সংস্থাগুলির দায়িত্ব দ্রুত সেই নির্দেশ কার্যকর করা। তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে বা জনস্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে পারে—এমন কোনও অ্যাপকে কোনওভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতেও এই ধরনের ক্ষতিকর অ্যাপের বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি চালানো হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র।
ট্রাম্পের কোষাগারে ভারতের ১০ মিলিয়ন ডলার! সামনে এল চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট
ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলিতে দাবি করা হয়েছে, BAT-BMS বা BAT-BMC নামে একটি চিনা অ্যাপ নির্দিষ্ট কিছু বৈদ্যুতিক তিন চাকার গাড়ির ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (Battery Management System)-এর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। এরপর ব্যবহারকারী দূর থেকেই সেই গাড়ির বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিতে সক্ষম হন। কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তা দিয়ে চলন্ত টোটো আচমকাই থেমে যাচ্ছে, আর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সেটি নিয়ন্ত্রণ করছেন। যদিও সব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি, তবুও বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করে। কারণ, চলন্ত যানবাহনকে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ করে দেওয়া গেলে তা শুধু চালকের জন্য নয়, যাত্রী এবং পথচারীদের জন্যও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
এই ঘটনার পর কেন্দ্রীয় সরকার শুধু সংশ্লিষ্ট অ্যাপ নিষিদ্ধ করেই থেমে থাকছে না। সরকার জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অ্যাপ সহজে সাধারণ মানুষের হাতে না পৌঁছায়, সে জন্য গুগল, অ্যাপল-সহ অ্যাপ স্টোর পরিচালনাকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে যৌথভাবে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। বিশেষ করে যেসব অ্যাপ কোনও যানবাহন, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বা গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে, সেগুলিকে আরও কঠোরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সরকারের মতে, প্রযুক্তির সুবিধা যেমন মানুষের জীবন সহজ করছে, তেমনই সেই প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বিদেশ প্রতিমন্ত্রী থেকে সর্বদলীয় প্রতিনিধি, ইরানের আমন্ত্রণে খামেনেইকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ভারতের প্রতিনিধি দল
ভারতে ই-রিকশা (E-Rickshaw) এবং টোটো এখন শহর থেকে গ্রাম,সব জায়গাতেই অত্যন্ত জনপ্রিয় গণপরিবহন। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ এই যানবাহনের উপর নির্ভর করেন। তাই এই ধরনের প্রযুক্তিগত দুর্বলতা বা নিরাপত্তা ত্রুটি সামনে আসা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই কারণেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ব্যবহারকারীদেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, অজানা বা অবিশ্বস্ত উৎস থেকে কোনও অ্যাপ ডাউনলোড না করতে এবং নিজের ইলেকট্রিক যানবাহনের সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট রাখতে। তদন্ত এখনও চলছে। ভবিষ্যতে এই ঘটনায় আরও কোনও প্রযুক্তিগত বা নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি সামনে আসে কি না, সেদিকেও নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



