0%

বারুইপুরের পর এবার বর্ধমান, আদিবাসী বধূকে ধর্ষণ করে খুন! পলাতক অভিযুক্ত

সবদিক নিউজ: পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘী থানার অন্তর্গত পালিতপুর এলাকায় ঘটে গেল এক হাড়হিম করা ও চরম নৃশংস ঘটনা! এক আদিবাসী বধূকে গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগে মঙ্গলবার সকাল থেকেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা জেলায়। নিখোঁজ আদিবাসী মহিলার ক্ষতবিক্ষত নিথর দেহ সকালবেলা বাড়ির কাছের একটি খেত থেকে উদ্ধার হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিবারের সরাসরি অভিযোগ, মদের আসরে থাকা এলাকারই এক যুবক এই নৃশংস কাণ্ড ঘটিয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুরে মৃত আদিবাসী বধূ, তাঁর স্বামী এবং এলাকারই বাসিন্দা শেখ আইজুল নামের এক যুবক বাড়ির পাশের একটি মাঠে বসে একসঙ্গে মদ্যপান করছিলেন। মদের আসর শেষ হওয়ার পর বিকেল ৪টে নাগাদ ওই বধূ নিজের বাড়ি ফিরে এসে ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর সন্ধে নাগাদ ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন যে তাঁর স্বামী তখনও মাঠ থেকে বাড়ি ফিরে আসেননি। স্বামীকে খুঁজতে তিনি আবার একা একাই মাঠের উদ্দেশ্যে রওনা দেন, কিন্তু তারপর আর বাড়ি ফিরে আসেননি।

এদিকে কিছুক্ষণ পর মদ্যপ অবস্থায় স্বামী একা বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত গোটা গ্রাম চষে ফেললেও বধূর কোনও হদিশ মেলেনি। এরপর মঙ্গলবার সকালে বাড়ির অদূরেই একটি চাষের জমি থেকে ওই আদিবাসী বধূর রক্তাক্ত ও বিবস্ত্র নিথর দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, ওই গৃহবধূকে একা পেয়ে জোরপূর্বক মাঠের আড়ালে তুলে নিয়ে গিয়ে পাশবিক গণধর্ষণ করা হয়েছে এবং পরে প্রমাণ লোপাট করতে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে।

মদের আসরে থাকা শেখ আইজুলই মূল খলনায়ক? সকাল থেকেই এলাকাছাড়া অভিযুক্ত

এই বর্বরোচিত ঘটনার পর নিহতের ভাই সংবাদমাধ্যমের সামনে সরাসরি শেখ আইজুলকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মৃতার ভাইয়ের বিস্ফোরক দাবি, “সোমবার দুপুরে শেখ আইজুল আমাদের সঙ্গেই মদের আসরে ছিল। দিদি যখন রাতে জামাইবাবুকে খুঁজতে বের হয়, তখন আইজুল ওৎ পেতে দিদির পিছু নিয়েছিল। ও দিদিকে ধর্ষণ করে গলা টিপে মেরে জমিতে ফেলে দিয়ে গেছে। কারণ আজ সকাল থেকেই আইজুল নিজের বাড়ি ছেড়ে বেপাত্তা।” এই ঘটনার পর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠাল দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশ, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশ বিশাল বাহিনী নিয়ে পালিতপুর গ্রামে পৌঁছায়। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে পরিস্থিতি সামাল দিতে মৃতদেহটি উদ্ধার করে তড়িঘড়ি বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের (Autopsy) জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নারীর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। তবে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে এলেই স্পষ্ট হবে যে খুনের আগে ওই বধূ ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন কি না। পলাতক শেখ আইজুলের খোঁজে ও এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি ও নাকা চেকিং শুরু করেছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker