ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের ভিড়েই ছিল খুন-ধর্ষণ-ডাকাতির অভিযুক্তরা, বিস্ফোরক দাবি দিল্লি পুলিশের

বাংলা হান্ট ডেস্ক : দিল্লির যন্তর-মন্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে হওয়া ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভকে (CJP Protest) ঘিরে তদন্তে নেমে বড় দাবি করল দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। আন্দোলনের দিন জুড়ে ঘটে যাওয়া অশান্তি, ভাঙচুর এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে তদন্তকারীদের দাবি, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বহু মানুষের বিরুদ্ধে আগে থেকেই গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। মন্ত্রীর পদত্যাগের পর ককরোচ জনতা পার্টি আপাতত আন্দোলন স্থগিত রাখলেও, সেই দিনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে পুলিশের তদন্ত এখনও জোরকদমে চলছে।
ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ (CJP Protest) প্রসঙ্গে দিল্লি পুলিশ
প্রসঙ্গত, গত ২০ ও ২২ জুলাই ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল CJP। সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যন্তর-মন্তর এলাকায় উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, ব্যারিকেড ভেঙে সংসদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীদের একাংশ। পুলিশের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, নিরাপত্তা বলয় ভেঙে এগোনোর সময় পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয় এবং পেপার স্প্রে ব্যবহার করা হয়।
শুধু তাই নয়, তদন্তে উঠে এসেছে টলস্টয় মার্গে একটি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনাও। সেই সময় গাড়ির ভিতর পুলিশকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থার। তদন্তের স্বার্থে যন্তর-মন্তর এবং সংলগ্ন এলাকার শত শত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। এরপর ফেসিয়াল রেকগনিশন প্রযুক্তির সাহায্যে উপস্থিত ব্যক্তিদের পরিচয় মিলিয়ে দেখা হয়।
সেই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশের দাবি, ওই বিক্ষোভে অন্তত ২,৮৭৩ জন এমন ব্যক্তি ছিলেন, যাদের নাম আগে থেকেই পুলিশের বিভিন্ন অপরাধমূলক নথিতে রয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ২,৮৭৩ জনের মধ্যে ৯৮৯ জনের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, ডাকাতি এবং পকসো (POCSO) আইনের মতো গুরুতর ধারায় মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। খুনের মামলায় অভিযুক্তের সংখ্যা ১০১। তাঁদের মধ্যে ৪২ জনের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে এবং ১২ জন এমন অভিযুক্ত, যাদের নামে ১০টিরও বেশি খুনের মামলা রয়েছে। এছাড়া ৬২ জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, চিহ্নিত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬১ জন ধর্ষণের মামলার অভিযুক্ত। এর মধ্যে ৮ জনের বিরুদ্ধে একাধিক ধর্ষণের মামলা রয়েছে। পকসো আইনে অভিযুক্ত ৬ জন। পাশাপাশি যৌন নিগ্রহের অভিযোগ রয়েছে আরও ২৫ জনের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, ২৮৪ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতি, ২২৯ জনের বিরুদ্ধে বেআইনি অস্ত্র আইনে এবং ১৯ জনের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

আরও পড়ুন : রাতের যাতায়াত এবার আরও সহজ! ব্লু ও গ্রিন লাইনে শুরু লেট নাইট মেট্রো পরিষেবা
তদন্তকারীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে রক্তাক্ত অবস্থায় একাধিক পুলিশ সদস্যকে দেখা গিয়েছে। তবে ঘটনার অন্য একটি দিকও সামনে এসেছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের নামে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে এবং বহু অংশগ্রহণকারীর উপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। ফলে সংঘর্ষের ঘটনাকে ঘিরে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট ফারাক তৈরি হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছে তদন্তকারী মহল।




