ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে অপরাধীদের তাণ্ডব? ফেসিয়াল রিকগনিশনে শনাক্ত হাজারেরও বেশি দুষ্কৃতী!

AK Bangla 24×7 Digital: দিল্লির সাম্প্রতিক ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে তাণ্ডব চালানো তাণ্ডবকারীদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে তৎপর হয়ে উঠেছে দিল্লি পুলিশ। শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিয়ো ক্লিপ গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে পুলিশ আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্র-যুবক এবং হিংসাত্মক কাজে লিপ্ত দুষ্কৃতীদের আলাদা করার কাজ শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, একটি বিশেষ গোষ্ঠী পুলিশের ওপর আক্রমণ চালানো, ব্যারিকেড ভাঙা, পাথর ছোড়া এবং সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি ভাঙচুরের মতো অরাজক পরিস্থিতিতে জড়ায়। এই অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ আধুনিক ‘ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম’ প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এ পর্যন্ত অন্তত ২,৮৭৩ জন এমন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে, যাদের নাম পূর্বেও বিভিন্ন অপরাধমূলক তালিকায় নথিভুক্ত ছিল। দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমার সরকারের কাছে জমা দেওয়া একটি বিশেষ রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন যে, চিহ্নিতদের মধ্যে ৯৮৯ জনের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, ডাকাতি এবং শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধের ইতিহাস রয়েছে। এর মধ্যে ১০১ জনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ, ৬২ জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, ২৮৪ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতি এবং ২২৯ জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে।
যদিও দিল্লির পুলিশ প্রশাসন আন্দোলনকারী ছাত্র-যুবকদের বিরুদ্ধে থাকা সাধারণ এফআইআর (FIR) প্রত্যাহার করে নেওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করছে, তবে এই তাণ্ডবের নেপথ্যে থাকা অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ২০ জুলাইয়ের ওই সহিংস ঘটনায় যুক্ত থাকা অপরাধমূলক ব্যাকগ্রাউন্ডের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত জারি থাকবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কারা রাজপথে তাণ্ডব চালাল, তা বের করাই এখন তদন্তকারীদের মূল অগ্রাধিকার।



