0%

ইনস্টাগ্রামের প্রেম থেকে পাক হ্যান্ডলারদের টোপ! ঝাড়খণ্ডের বাইকার গার্ল অর্পিতা কীভাবে হয়ে উঠল জ*ঙ্গিদের চালিকাশক্তি?

AK Bangla Desk: নিছকই টাকার লোভ, নাকি নেপথ্যে গভীর কোনও ‘লাভ জেহাদ’-এর ষড়যন্ত্র? পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন ও আইএসআই (ISI)-এর হয়ে কাজ করা ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডল এবং তার ঝাড়খণ্ডের বান্ধবী অর্পিতা সরকারের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এখন রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি গোয়েন্দা মহলেও চরম তোলপাড়। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে, কেবল প্রেমের সম্পর্কই নয়, অর্পিতাকে ঢাল বানিয়ে এক বিশাল ‘হানিট্র্যাপ’ ও অপহরণ চক্রের জাল ছড়িয়েছিল পাক হ্যান্ডলাররা।

তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, অর্পিতার মাধ্যমে হাওড়ার এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর ছেলেকে সোশাল মিডিয়ায় ফাঁদে ফেলেছিল এই চক্র। প্রায় চার মাস ধরে যোগাযোগ রেখে তাঁকে হানিট্র্যাপ করা হয়। এরপর মন্ত্রীর পরিবারের কাছ থেকে দফায় দফায় বিপুল অংকের টাকা আদায় শুরু হয়। শুধু তাই নয়, ওই তরুণকে নির্দিষ্ট এক জায়গায় ডেকে পণবন্দি করে আরও বড় অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের ছক কষেছিল হামিম ও অর্পিতা। গোয়েন্দাদের দাবি, কেবল ওই মন্ত্রীর ছেলেই নন, রাজ্যের আরও একাধিক প্রভাবশালী ও বিত্তশালী ব্যক্তিকে ব্ল্যাকমেল করার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জের বাসিন্দা অর্পিতা বরাবরই স্থানীয় এলাকায় অত্যন্ত ‘স্মার্ট’ ও গ্ল্যামারাস হিসেবে পরিচিত ছিল। পেশায় বাইক-প্রেমী ও সোশাল মিডিয়া রিলস-মেকার অর্পিতার সঙ্গে চার বছর আগে ইনস্টাগ্রামে পরিচয় হয় নিজেকে হাওড়ার ব্যবসায়ী পরিচয় দেওয়া হামিম মণ্ডলের। ধীরে ধীরে মেসেজ আদান-প্রদান থেকে শুরু হয় ঘনিষ্ঠতা এবং প্রেম। ততদিনে হামিমকে মগজধোলাই করে জঙ্গি সংগঠনে যুক্ত করে ফেলেছে পাক হ্যান্ডলাররা। পরবর্তীতে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে অর্পিতারও মগজধোলাই করা হয়।

পাক জঙ্গি শেহজাদ ভাট্টি, রানা ও আবিদদের মতো হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিয়ে অর্পিতাকে পুরোদস্তুর হানিট্র্যাপের কাজে নামানো হয়। আপাতত এসটিএফ গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন, এই মডিউলে আর কতজন তরুণ-তরুণীকে ব্যবহার করা হয়েছে এবং রাজ্যের কোথায় কোথায় তাদের জাল ছড়িয়ে রয়েছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker