৫ বছরে ২০০ কোটির আয়কর! গাড়ি-বাড়ি-সোনা থেকে প্ল্যাটিনাম, কোথায় উধাও বীরভূমের ‘পাথরসম্রাট’ টুলু?

AK Bangla Desk: বীরভূমের ‘পাথরসম্রাট’ হিসেবে পরিচিত টুলু মণ্ডলের সম্পত্তির পরিমাণ দেখলে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়! কী নেই তাঁর, বিলাসবহুল গাড়ি, বিশাল বাড়ি, বিপুল নগদ টাকা, সোনা, রুপো থেকে শুরু করে অমূল্য প্ল্যাটিনাম। তবে শুধু অঢেল সম্পত্তিই নয়, তাঁর বার্ষিক আয়করের পরিমাণ দেখে কার্যত হিমশিম খাচ্ছেন তদন্তকারীরা। সরকারি হিসাব ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিগত ৫ বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকারও বেশি আয়কর জমা দিয়েছেন এই ব্যবসায়ী! সেই হিসেবে বীরভূম জেলার সর্বোচ্চ আয়কর দাতাদের তালিকায় শীর্ষে নাম রয়েছে এই ‘পাথরসম্রাট’-এর।
টুলু মণ্ডলের মালিকানাধীন ‘মণ্ডল স্টোন প্রোডাক্ট প্রাইভেট লিমিটেড’ নামক একটি সংস্থা রয়েছে। সরকারি নথি পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে টুলুর এই কোম্পানির মোট আয় ছিল ৪৩ কোটি ২০ লক্ষ ৮৮ হাজার ১৭০ টাকা, যার মধ্যে আয়কর হিসেবে জমা পড়েছিল ১১ কোটি ৫২ লক্ষ ৭৩ হাজার ১১ টাকা। পরবর্তী ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সংস্থার আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৫৭ কোটি ৭১ লক্ষ ৫৫ হাজার ৪৬০ টাকা এবং আয়করের পরিমাণ পৌঁছায় ১৫ কোটি ৮৯ লক্ষ ৮৬ হাজার ৯২২ টাকায়। পিছিয়ে নেই তাঁর স্ত্রী ফিরোজা বেগমও। ২০২৫-২৬ সালে তাঁর নিজস্ব আয় ছিল ৪ কোটি ৩২ লক্ষ ৪৭ হাজার ৭২০ টাকা, যেখানে তিনি আয়কর দিয়েছেন ১ কোটি ৭১ লক্ষ ১ হাজার ৫৭৮ টাকা।
স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, সাধারণ এক পাথর ব্যবসায়ী কীভাবে এত স্বল্প সময়ে কোটি কোটি টাকার বিপুল সাম্রাজ্য গড়ে তুললেন? সম্প্রতি এক রাজনৈতিক সভায় খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী টুলু মণ্ডলের পাহাড়প্রমাণ সম্পত্তির হিসাব প্রকাশ্যে আনেন, যার বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট অভিযোগ তোলেন যে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সরাসরি যোগসাজশ না থাকলে এভাবে বিপুল অঙ্কের সম্পত্তি গড়ে তোলা অসম্ভব। এই আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
এদিকে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য তদন্তকারী সংস্থা দফায় দফায় টুলু মণ্ডল ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একাধিক আস্তানায় তল্লাশি চালিয়েছে, কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনকভাবে মূল অভিযুক্ত ‘পাথরসম্রাট’ টুলু মণ্ডলের এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, গ্রেফতারি এড়াতে তিনি ইতিমধ্যেই বিদেশে পালিয়ে গিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। বর্তমানে তাঁর নামে জারি করা হয়েছে আদালত কর্তৃক গ্রেফতারি পরোয়ানা। পুলিশ এখন তাঁর খোঁজে তল্লাশি জোরদার করেছে।



