শেষ মুহূর্তের গোলে হার বাঁচাল ইস্টবেঙ্গল, বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে দুরন্ত জোড়া গোল বিএসএসের শ্লোকের

ইস্টবেঙ্গল: ৩ (শ্লোক ২, সুখরাম)
বিএসএস: ৩ (বিজয়, বিলাল, মনতোষ)
টানা পাঁচ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে কলকাতা প্রিমিয়ার লিগে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল। সেই মিশনে শেষ পর্যন্ত ছেদ টানল বেহালা এসএস স্পোর্টিং ক্লাব। লিগ তালিকায় আটে থাকা দলটি শক্তিশালী ইস্টবেঙ্গলকে শুরু থেকেই সমানে টক্কর দেয়। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে শেষ মিনিট পর্যন্ত নাটকীয়তা বজায় ছিল। শেষ মুহূর্তের গোলে হার বাঁচায় লাল-হলুদ। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচের ফলাফল ৩-৩। তবে বিএসএস স্পোর্টিংয়ের লড়াকু ফুটবল প্রশংসা কুড়িয়েছে।
ইস্টবেঙ্গল মাঠে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল না লাল-হলুদ। জেসিন টিকে এবং পিভি বিষ্ণুকে ছাড়াই তন্ময় দাসের নেতৃত্বে নামা লাল-হলুদকে প্রথম থেকেই চাপে ফেলে বেহালা এসএস। তারই ফল মিলল মাত্র পাঁচ মিনিটে। ডান প্রান্ত থেকে ভেসে আসা অনবদ্য সেন্টারকে কাজে লাগিয়ে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণকে স্তম্ভিত করে গোল করেন শ্লোক তিওয়ারি। গোলের মুহূর্তে মনতোষ চাকলাদার ও চাকু মাণ্ডির মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব ধরা পড়ে। সেই ভুলেরই পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে এগিয়ে যায় বেহালা।
গোল হজমের পর কিছুটা গুছিয়ে খেলার চেষ্টা করে ইস্টবেঙ্গল। ১৫ মিনিটে আকাশ হেমব্রমের জোরালো হেড দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন বেহালার গোলরক্ষক অভিজিৎ কর। তবে আকাশই শেষ পর্যন্ত সমতায় ফেরানোর মূল কারিগর। ৩০ মিনিটে দুরন্ত গতিতে ডান দিক দিয়ে যেভাবে তিনি উঠে এলেন, তার জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। আকাশের বাড়ানো নিখুঁত ক্রস থেকে উড়ন্ত হেডারে বিজয় মুর্মুর গোলে সমতায় ফেরে ইস্টবেঙ্গল। যদিও সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৭ মিনিট পরই বেহালাকে এগিয়ে দেন শ্লোক।
কিন্তু এরপরেই প্রকৃতি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। সঙ্গে বজ্রপাতের কারণে ৪০ মিনিটের মাথায় ম্যাচ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন আধিকারিকরা। বেশ কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ হওয়ার পর শুরু হয় খেলা। প্রথমার্ধের সংযুক্তি সময়ে (৪৬ মি.) ইস্টবেঙ্গলকে সমতায় ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন বিজয়। গোল হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৪৭ মিনিটে সুখরাম সর্দারের গোলে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বেহালা। তিন মিনিট পর হ্যান্ডশেকিং দূরত্ব থেকে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন শ্লোক। গোলটি পেলে হ্যাটট্রিক পেয়ে যেতে পারতেন। ৫৩ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের মনতোষ মাঝির জোরালো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন বেহালার গোলরক্ষক। ৫৬ মিনিটে আকাশের হেডও প্রতিহত করেন তিনি। তবে ৬২ মিনিটে সুযোগসন্ধানী মহম্মদ বেলাল বাঁ পায়ের আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান কমিয়ে লাল-হলুদকে ম্যাচে ফেরান। এরপর একাধিক সুযোগ পেয়েও সমতায় ফিরতে পারেনি মশাল ব্রিগেড। ইস্টবেঙ্গলের জয়ের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন অভিজিৎ করের দস্তানা। একের পর সেভ করলেও ৯১ মিনিটে পরাস্ত হন। মনতোষ মাজির গোলে সমতায় ফেরে লাল-হলুদ। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফলাফল থাকে ৩-৩। এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।
শেয়ার
লিংক



