কংগ্রেস সভাপতি খাড়গের মুখে বিতর্কিত মন্তব্য! মোদীর বাবাকে তুলে কটাক্ষ, পালটা তোপ বিজেপির

সবদিক নিউজ:প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (Narendra Modi) আক্রমণ করতে গিয়ে তাঁর বাবাকে টেনে এনে বিতর্কে জড়ালেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে (Mallikarjun Kharge)। রবিবার বিহারের পটনায় (Patna) এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাঁর মুখে শোনা যায়, ‘মোদির বাপকেও যেতে হবে।’ খাড়্গের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে শালীনতার সীমা অতিক্রম করার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন। একই সঙ্গে ওই সভায় উপস্থিত এক ব্যক্তিকে কংগ্রেস কর্মীরা মারধর করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। সব মিলিয়ে খাড়্গের মন্তব্য ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি।
মোদীর বাবাকে তুলে কটাক্ষ করায় বিতর্কে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে (Mallikarjun Kharge)
বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিংয়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পটনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন খাড়্গে (Mallikarjun Kharge)। সেখানে বক্তব্য রাখার সময় এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিয়ে মন্তব্য করেন। অভিযোগ, ওই ব্যক্তি বলেছিলেন, দেশে বিদ্রোহ না হলে মোদি কোথাও যাবেন না। তবে বক্তার পুরো বক্তব্য খাড়্গের কানে পৌঁছয়নি বলে দাবি করা হচ্ছে। তিনি শুধু ‘মোদি কোথাও যাবেন না’ অংশটুকু শুনেই প্রতিক্রিয়া দেন। এর পরেই তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘মোদির বাপকেও যেতে হবে।’ সভায় উপস্থিত ব্যক্তির বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কংগ্রেস সভাপতির এই প্রতিক্রিয়া ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, একই মন্তব্য তিনবার করেন খাড়্গে। যদিও ঘটনাটির সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং বক্তব্যের ধারাবাহিকতা বিচার করেই বিষয়টি দেখা প্রয়োজন।
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের জের, কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে বড় সতর্কতা, আজকের আবহাওয়ার খবর
এদিকে, খাড়্গের মন্তব্যের পর ওই ব্যক্তিকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যাঁর কথার জেরে কংগ্রেস সভাপতি আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ, সেই সন্তোষ কুমারকে সভাস্থল থেকে বের করে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি উঠেছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে কংগ্রেস কর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে মারধরের অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। রাজনৈতিক সভায় কোনও ব্যক্তির বক্তব্যের জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। একদিকে প্রধানমন্ত্রীর বাবাকে উল্লেখ করে খাড়্গের মন্তব্য, অন্যদিকে সভায় উপস্থিত ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ—দুই ঘটনাই রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
খাড়্গের মন্তব্যের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সরব হয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সমাজমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস সভাপতি ভদ্রতার সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছেন। শাহর দাবি, এর আগেও কংগ্রেসের নেতারা প্রধানমন্ত্রী মোদির পরিবারকে নিশানা করেছেন, তাঁর মাকে অপমান করেছেন এবং তাঁর দারিদ্র নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস প্রতিদিনই শালীনতার সীমা ছাড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন-সহ দলের অন্য নেতারাও খাড়্গের বক্তব্যের সমালোচনায় সরব হয়েছেন। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকতেই পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণের ক্ষেত্রে সংযম বজায় রাখা জরুরি। কংগ্রেসের তরফে এই বিতর্কে কী প্রতিক্রিয়া জানানো হয়, সেদিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

আকাশে ‘নীলকণ্ঠ’ রাফালের গর্জন! ‘উইংস ওভার গঙ্গা’-য় বায়ুসেনার শক্তিতে মুগ্ধ মোদি
অন্যদিকে, পটনার ওই সভা থেকে শুধু প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্যই নয়, অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান নিয়েও মুখ খুলেছিলেন খাড়্গে (Mallikarjun Kharge)। তাঁর বক্তব্য, ভগবান রামের কাছে তিনি প্রার্থনা করেন, যাঁরা তাঁর নাম ব্যবহার করে বিপুল সম্পদ লুট করেছেন, তাঁদের যেন শাস্তি হয়। নাম না করেই এই মন্তব্যের মাধ্যমে বিজেপি এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদকে নিশানা করেছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। উল্লেখ্য, রাম মন্দিরে অনুদান নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ আগেও তুলেছে কংগ্রেস। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। একদিকে রাম মন্দিরের অনুদান নিয়ে খাড়্গের মন্তব্য, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে তাঁর বিতর্কিত উক্তি—সব মিলিয়ে বিহারের এই সভা ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।




