0%

ক্ষমতাই কি শেষ কথা? নধরের হাত ধরে ‘দ্যি গ্রেট বেঙ্গল সার্কাস’-এর পতন!

আমরা প্রায়ই মনে করি ক্ষমতাই শেষ কথা। যার হাতে ক্ষমতা, সেই-ই সফল। কিন্তু পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের কথায়, “ক্ষমতা ব্যবহার করার ক্ষমতা যার হাতে সে-ই সফল মালিক, সেই রানী, সেই রাজা। এই সাফল্য আসলে ঐতিহাসিক ভাবে  ব্যর্থতাই।” ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, ক্ষমতার শীর্ষে উঠেও শেষ পর্যন্ত পতন অবধারিত, হিটলার থেকে শুরু করে অসংখ্য উদাহরণ তার সাক্ষী। এটি পরিচালক আরও একবার দর্শকদের সামনে আনলেন ‘নধরের ভেলার’ সিনেমার মাধ্যমে। ‘দ্যি গ্রেট বেঙ্গল সার্কাস’-এর ম্যানেজারের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার গল্প দিয়ে।

দ্রুতগতির এই সময়ের বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে অত্যন্ত ধীর-স্থির মানুষ ‘নধর’। সিস্টেমের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে সে ভেলায় ভেসে যেতে চায়। মঙ্গলকাব্যের আবহমান বিশ্বাসে ভেলায় ভেসে যাওয়ার এক অদ্ভুত আকাঙ্ক্ষা তাঁর। নধর অত্যন্ত ধীর, শান্ত, সংযত, স্থিরচরিত্রের মানুষ। তার রাগ আছে, কিন্তু তা বিস্ফোরিত হয় না চিৎকারে বা হিংসায়, রেগে গেলে সে ‘প্রসাব করে দেয়’-এক নিঃশব্দ অথচ তীব্র প্রতিবাদ।

‘নধরের ভেলা’ (Nadharer Bhela) ছবিতে এই নধেরের চরিত্রের প্রবেশ ঘটে ‘দ্যি গ্রেট বেঙ্গল সার্কাস’-এর দলে। সার্কাসের ম্যানেজার স্বার্থপর, ক্ষমতালোভী এবং শোষক। দলের কেউ তাঁকে পছন্দ করে না, কিন্তু জীবিকার তাগিদে সবাই তাঁর সামনে মাথা নোয়ায়। ভিতরে ভিতরে ক্ষোভ জমতে থাকে। অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে কেউ কেউ দল ছেড়ে আলাদা দল গড়ার পরিকল্পনাও করছে। এই অস্থিরতার মধ্যেই আসে নধর। তাঁর অত্যন্ত ধীরগতি নিয়ে উপহাস, বিদ্রূপ নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে। সার্কাসের দলের শ্যামা নামের একজন বেহুলার চরিত্রে অভিনয় করে যেতে চায়, কিন্তু বর্তমানে মানুষ আর বেহুলার যাত্রাপালায় মুগ্ধ হয় না। বেহুলার যাত্রাপালায় মুনাফা না হওয়ায় দলের ম্যানেজার হারাধন তাঁকে দিকে জোর করে নাচের শো করাতে চায়, এদিকে বেহুলা চরিত্রে অভিনয় করেই তৃপ্তি পায়।  

নধরের ভেলায় ভেসে যাওয়ার ইচ্ছে আর শ্যামার বেহুলা হয়ে ওঠার স্বপ্ন, দুজনের আকাঙ্ক্ষা কোথাও গিয়ে মিলেমিশে এক হয়ে যায়। এদিকে ম্যানেজারের একমাত্র লক্ষ্য মুনাফা আর ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা। অবশেষে অবাক করে সেই ধীর-স্থির নধরের হাত দিয়েই ক্ষমতাচ্যুত হয় ম্যানেজার। যেন নীরব,অবহেলিত মানুষের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে পরিবর্তনের শক্তি।

ছবিতে নধরের চরিত্রে অমিত সাহার অভিনয় প্রশংসনীয়। পাশাপাশি ঋত্বিক চক্রবর্তী, প্রিয়াঙ্কা সরকার, অপরাজিতা ঘোষ দাস, নিলয় সমীরণ নন্দী, শতাক্ষী নন্দী, সায়ন ঘোষ ও কৌশিক রায়ের অভিনয় ছবিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। আর সাত্যকি বন্দ্যোপাধ্যায়ের হৃদয়ছোঁয়া গান- “জল নাই, মাছ নাই… জল নাই/নদীর ক্ষুধা” ছবির অন্তর্লীন বেদনা ও প্রতিবাদের সুরকে আরও গভীর করে তুলেছে।

আরও পড়ুন: চন্দন সেনের মন্তব্যে নতুন মাত্রা, দলবদলে আত্মসমালোচনার ইঙ্গিত!

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker