0%

‘ঘুমবেন না, আমাদের আপনাকে প্রয়োজন’, মচ্ছরকে বাঁচাতে ৪৫ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের বর্ণনা চিকিৎসকের

রক্তে ভেসে যাচ্ছে শরীর। মাথা, ঘাড় ও কাঁধে ভয়ংকর ক্ষত নিয়ে ককপিটের মেঝেতে পড়ে ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছত। নাড়ির স্পন্দন নামতে নামতে প্রায় বন্ধ হওয়ার জোগাড়। এই পরিস্থিতিতে তাঁর কানের কাছে মুখ এনে চিকিৎসক বলছেন, ‘দয়া করে ঘুমোবেন না, আমাদের আপনাকে প্রয়োজন।’ ফ্লাই দুবাইয়ের ককপিটে ৪৫ মিনিটের সেই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা জানালেন ইজরায়েলের দন্ত চিকিৎসক শুটা মুসায়েভ। ৩০ সেপ্টেম্বর অভিশপ্ত সেই বিমানে তিনিই ছিলেন একমাত্র চিকিৎসক। তাঁর চেষ্টাতেই এ যাত্রায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন পাইলট মচ্ছর।

ওমানের সন্ত্রাসী সহ-পাইলট আল হামামির কুঠারাঘাতে রক্তাক্ত অবস্থাতেই কোনওমতে তখন ককপিটের দরজা খুলে দিয়েছেন মচ্ছর। বাকি যাত্রীরা তখন কাবু করে ফেলেছে জঙ্গিকে। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা মচ্ছরের প্রাণ বাঁচাতে ছুটে আসেন মুসায়েভ। দ্য ন্যাশনালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুসায়েভ বলেন, “চিকিৎসার ন্যূনতম সামগ্রীও তখন আমার কাছে ছিল না। বরফ ও টি-শার্ট ব্যবহার করে রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করি। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে ক্ষতস্থানগুলি চেপে ধরে রাখি। একটা সময় নাড়ির স্পন্দন একেবারে কমে যায়। তখন পা উঁচু করে কিছুক্ষণ রাখায় ফের স্পন্দন ফেরে। ঠোঁট নীল হতে শুরু করে। বুঝতে পারছিলাম হাতে বেশি সময় নেই।”

চিকিৎসকের কথায়, “মচ্ছর যাতে ঘুমিয়ে না পড়েন তাই নাগাড়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলে যাচ্ছিলাম। ওনার কটি সন্তান? তাদের নাম কী? এইসব। আশ্বস্ত করছিলাম, ভয় পাবেন না। আপনি পরিবারের কাছে ফিরবেন। আমরা ল্যান্ড করছি।”

চিকিৎসকের কথায়, “মচ্ছর যাতে ঘুমিয়ে না পড়েন তাই নাগাড়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলে যাচ্ছিলাম। ওনার কটি সন্তান? তাদের নাম কী? এইসব। আশ্বস্ত করছিলাম, ভয় পাবেন না। আপনি পরিবারের কাছে ফিরবেন। আমরা ল্যান্ড করছি।” এক পর্যায়ে মচ্ছর কাতর সুরে বলেন, “আমাকে বাঁচতে সাহায্য করুন। আমি এখানে মরতে চাই না।” সোশাল মিডিয়ায় সেদিনের যে ভিডিও সামনে এসেছে সেখানে দেখা যাচ্ছে, মচ্ছর ব্যথার ওষুধ চাইছেন। কিন্তু চিকিৎসক তা দেননি। চিকিৎসকের কথায়, “উনি চিৎ হয়ে শুয়ে ছিলেন। নড়লে আবার রক্তক্ষরণ শুরু হবে। ফলে ওষুধ দেওয়া বিপজ্জনক। অল্প অল্প জল দিচ্ছিলাম শুধু। আর টানা কথা বলে যাচ্ছিলাম। যাতে উনি না ঘুমান।”

এই পরিস্থিতিতে বিমানে থাকা অন্য দু’জন পাইলট বিমানটিকে সৌদিতে অবতরণ করান। সেখানে আগে থেকেই সব প্রস্তুতি সারা হয়ে গিয়েছিল। অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকরা মচ্ছরের চিকিৎসা শুরু করেন। ভারতীয় দূতাবাসের তরফে জানানো হয়েছে, আমিরশাহীর হাসপাতালে তিনি এখন স্থিতিশীল। দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। মচ্ছরের সাহসিকতায় মুগ্ধ গোটা বিশ্ব। তাঁকে হিরোর তকমা দিয়েছে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকী মার্কিন পার্লামেন্টে মচ্ছরকে বিশেষ সম্মান দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker