0%

ট্রাফিক চালানের বকেয়া জমা দিয়েছেন? না দিলে কাটা হবে বাড়ির বিদ্যুৎ! কড়া পদক্ষেপে ‘সুপ্রিম’ বার্তা

ট্র্যাফিক আইন ভেঙে চালান পেয়েও জরিমানা পরিশোধ করেন না অনেকে। এই অভ্যাস ইতি টানতে নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপের পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সোমবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময় বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা বলেন, কেউ যদি ট্রাফিক জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করেন, সেক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিল-সহ অন্যান্য সরকারি বকেয়ার সঙ্গে তা যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। অর্থাৎ, এবার চালানের টাকা না মেটালে তা সরাসরি বাড়ির বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যুক্ত হবে। অনাদায়ে কাটা পড়বে বিদ্যুতের লাইন।

শুনানি চলাকালীন কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানায়, বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার ই-চালান সংক্রান্ত বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা আদায় করা গিয়েছে। বহু চালক জরিমানা জমা দেওয়ার বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করেন না, যার ফলে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থার ওপর বিপুল বোঝা তৈরি হচ্ছে। এই বিপুল অঙ্কের বকেয়া জরিমানা কীভাবে আদায় করা যায়, তা নিয়েই শুনানিতে প্রশ্ন ওঠে। এরপরেই বিচারপতি পারদিওয়ালার মন্তব্য, “লোকে যদি ট্রাফিক জরিমানা না দেয়, তাহলে সেটা তাঁদের বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যোগ করে দিন। তাঁদের বিদ্যুৎ বিল দিতেই হবে, নইলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। একটা সমাধান বের করুন।”

সুপ্রিম কোর্টের আরও পর্যবেক্ষণ, কর্তৃপক্ষকে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে পদক্ষেপ করতে হবে। বিচারপতি উল্লেখ করেন, পুলিশ হয়তো হাজার হাজার বা এমনকী লক্ষ লক্ষ ই-চালান জারি করতে পারে, কিন্তু আসল সমস্যা হল সেই জরিমানা আদায় করা। আদালত এও বলেছে, নতুন ব্যবস্থা (বিদ্যুতের বিলের সঙ্গে ট্রাফিক চালান সংযোগ) কার্যকর করতে গেলে আইনগত ও পরিকাঠামোগত বেশ কিছু জটিলতা আসবে। বিশেষ করে চালকের নাম ও বিদ্যুৎ মিটারের মালিকের নামের মিল থাকার বিষয়টি। তবুও নিয়ম অমান্যকারীদের শায়েস্তা করতে এবং বকেয়া জরিমানা আদায়ে নজিরবিহীন পদক্ষেপের কথাই ভাবা হচ্ছে। বলা বাহুল্য, এই অভিনব ভাবনা ট্র্যাফিক নজরদারিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker