‘তদন্ত হোক স্বাধীন ও নিরপেক্ষ’, তিশা শর্মা মৃত্যু মামলায় কড়া পর্যবেক্ষণ শীর্ষ আদালতের

সবদিক নিউজ: তিশা শর্মা পণমৃত্যু মামলায় সোমবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন মধ্যপ্রদেশ সরকারের পক্ষে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি আদালতে বলেন, এমন দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে বিবাহবিচ্ছিন্ন মেয়েকে মেনে নেওয়া অনেক ভালো। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে মামলার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। গত ২৩ মে এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা গ্রহণ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। মামলাটি নথিভুক্ত করা হয় এক তরুণীর বৈবাহিক বাড়িতে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ‘প্রাতিষ্ঠানিক পক্ষপাত’ এবং ‘প্রক্রিয়াগত অসঙ্গতি’র অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয় হিসেবে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলিও। শুনানির সময় বেঞ্চ জানায়, একটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে এবং এই মামলায় নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে আদালত সলিসিটর জেনারেলের আশ্বাসের কথাও নথিভুক্ত করে, যেখানে জানানো হয় যে সিবিআই তদন্তের বিষয়ে শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালত তার নির্দেশে স্পষ্ট করে দেয় যে মামলার কোনও অভিযোগ সম্পর্কে তারা কোনও মতামত প্রকাশ করছে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা সম্পূর্ণভাবে তদন্তকারী সংস্থার দায়িত্ব। শুনানির সময় মামলাটি ঘিরে সংবাদমাধ্যমে চলতে থাকা নানা ধরনের মন্তব্য এবং পাল্টা জনমতের প্রসঙ্গেও উদ্বেগ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি বলেন, কিছু ঘটনার কারণে আদালত কিছুটা ব্যথিত। তিনি জোর দিয়ে জানান, তদন্ত অবশ্যই সুষ্ঠু, স্বাধীন এবং নিরপেক্ষভাবে এগোতে হবে। এই প্রসঙ্গে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার কারণেই মামলায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বলেন, মিডিয়ার হস্তক্ষেপের ফলেই এখনও পর্যন্ত অনেক কিছু করা সম্ভব হয়েছে। তবে মামলাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে মন্তব্যের প্রবণতায় রাশ টানতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। আদালত ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত—উভয় পক্ষের পরিবারের সদস্য, সম্ভাব্য সাক্ষী এবং অভিযুক্তদের সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিতে নিষেধ করে। এরপর স্বতঃপ্রণোদিত মামলাটি নিষ্পত্তি করে দেয় শীর্ষ আদালত। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে উপযুক্ত আইনি মঞ্চে প্রয়োজনীয় প্রতিকার চাওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে তিশা শর্মার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে ভোপালের একটি শ্মশানে। তাঁর ভাই মেজর হর্ষিত শর্মা শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন। এর আগে দিল্লি এইমসের মেডিক্যাল বোর্ডের মাধ্যমে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করার পর তিশার দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরিবার প্রথমে তিশার দেহ নিতে অস্বীকার করেছিল। তাঁদের দাবি ছিল, প্রথম ময়নাতদন্তে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। সেই কারণেই তাঁরা স্বাধীনভাবে ফের ময়নাতদন্তের দাবি জানান। বৈবাহিক বাড়িতে তিশার মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়েও পরিবারের তরফে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়। নয়ডার বাসিন্দা তিশা শর্মাকে গত ১২ মে ভোপালের কাটারা হিলস এলাকায় তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, তিশার শাশুড়ি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিং, নিজের প্রভাব খাটিয়ে মামলার তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেছেন এবং ব্যবস্থা গ্রহণে দেরি করিয়েছেন। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই মামলায় তিশার স্বামী সমর্থ সিংয়ের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। তিনি ১০ দিন ধরে পলাতক ছিলেন বলে জানা যায়। পরে তাঁকে গ্রেফতার করে ভোপালে নিয়ে আসা হয়। আদালত তাঁকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।



