0%

সময়মতো না ঘুমোলে শরীর দেবে দাম! হার্ট অ্যাটাক থেকে বন্ধ্যত্ব—ঝুঁকি কতটা জানেন?

রাত বাড়তে থাকে। মোবাইলের আলো নিভতেই চায় না। “আর পাঁচ মিনিট” বলতে বলতে কখন যে ঘড়ির কাঁটা ১টা ছুঁয়ে ফেলে, খেয়াল থাকে না। সকালে উঠেই ক্লান্তি, বিরক্তি, কাজের অরুচি—এসব তো আছেই। কিন্তু শুধু মেজাজ খিটখিটে হওয়াই কি শেষ কথা? বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, ঘুমের নির্দিষ্ট সময় থেকে মাত্র ৩০ মিনিট এদিক-ওদিক হলেও শরীরের ভিতরে শুরু হতে পারে নীরবে ক্ষতি।

চিকিৎসক ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা নিশ্চিন্ত ঘুম শরীরের জন্য অপরিহার্য। এই ঘুমই শরীরের হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখে, কোষ মেরামত করে, মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেয়। কিন্তু সময়মতো না ঘুমোলে প্রথমেই হরমোন তৈরিতে আঘাত পড়ে । গ্রোথ হরমোন ও টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যায়, বাড়ে স্ট্রেস হরমোন। তার প্রভাব পড়ে উর্বরতার উপরেও। তাই দীর্ঘদিনের ঘুমের অভাব বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি বাড়াতে পারে—এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুধু তাই নয়, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে বাড়ে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ঘনঘন অসুস্থ হওয়া, সর্দি-কাশি লেগে থাকা—এসব তারই ইঙ্গিত। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ঘুমের অভাবে প্রতিবছর প্রায় ৭১ হাজার মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হন, দেড় হাজারেরও বেশি প্রাণহানি ঘটে। অর্থাৎ ঘুমের অভাব কেবল ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, জনস্বাস্থ্যের ওপরও বড় প্রভাব ফেলছে।

ওজন বাড়ার সঙ্গেও সরাসরি যোগ রয়েছে ঘুমের। ঘুম কম হলে খিদে নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। অস্বাভাবিক ইনসুলিন নিঃসরণ হয় আর যার ফলে টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। রক্তচাপ ও সুগার নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও বাড়ে।

ঘুম আসে না কেন? কাজের চাপ, মানসিক উদ্বেগ, শিফট ডিউটি, ঘুমের আগে মোবাইল বা অন্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রের অতিরিক্ত ব্যবহার—সব মিলিয়ে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ ভেঙে যায়। আবহাওয়ার অস্বস্তি বা অতিরিক্ত শব্দও বড় কারণ হতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, ঘুমের আগে মোবাইল দূরে রাখুন, নির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় যান, ঘর অন্ধকার ও শান্ত রাখুন। নিয়মিত ধ্যান বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করলে উপকার পাবেন। প্রয়োজনে কাউন্সেলিং করুন

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker