‘গেছে আপদ গেছে’! আদর্শ আর দলত্যাগ প্রসঙ্গে ঊষসীর বিস্ফোরক মন্তব্য

অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তী (Ushasie Chakraborty) সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে প্রতিকূরের দলত্যাগ প্রসঙ্গে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন। সেখানে গত কয়েক বছরে একের পর এক দলবদলের ঘটনা টেনে এনে তিনি লেখেন- “অনেক দলত্যাগ দেখলাম গত কয়েক বছরে! অন্যদের তো বটেই! এমনকি বামপন্থী দল থেকেও! বিভিন্ন প্রলোভনে কমিউনিস্ট পার্টি ত্যাগ করেছেন যারা তাঁরা চলে যাওয়ার পর পার্টি স্বস্তিই পেয়েছে! শতরূপকে কোট করে বললে বলতে হয় “চলে যাওয়ার পর মনে হয়েছে গেছে আপদ গেছে!”
এই তালিকাটা বিশাল লম্বা না হলেও ভারী তো বটেই! অনেকে আবার “পার্টির ভিতরে নৈতিকতার স্খলন দেখে পার্টি ত্যাগ করে এমন অনেক দল/গোষ্ঠী/শিবিরে যোগ দিয়েছেন যাদের নৈতিকতা বানান করতেই হয়তো দুটো দাঁত পড়ে যাবে!
মোদ্দা কোথা সেই যাওয়া গুলো আলাদা রকমের ছিলো! চারপাশে একরাশ স্বস্তির আবহে পার্টির মধ্যে কালেকটিভ খিল্লি হয়ে তারা দলত্যাগ করেছেন! এবারের মতো স্তম্ভিত আর শোকের আবহের মধ্যে যাননি কেউ! দীপ্শিতা প্রকাশ্যে ইন্টারভিউ তে। বলছেন দাদা ফিরে এস! মীনাক্ষীর মতন seasoned লিডার বিষণ্ণ মুখে বলেছেন আমর এই বিষয়ে নিয়ে বলার মতো মনসিক অবস্থা নেই! পার্টি সেক্রেটারি বলছেন আমি সন্তানহারা হলাম! দেখে শুনে মনে হচ্ছে প্রতিকূরের পার্টি জীবনে আর যারই অভাব থাক না কেন ভালোবাসার অভাব কোনোদিনও ছিলো না। এসব কিছু ছেড়ে এক এরিয়া কমিটির সেক্রেটারি কে নিয়ে যিনি রাতারাতি অন্য দলের পতাকা বুকে টেনে নিলেন তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এ আর যাই হোক কোনো আনন্দের অভিব্যাক্তি খুঁজে পেলাম না! আর পাশে দাঁড়ান আর এক দলত্যাগী এরিয়া কমিটির সেক্রেটারি টি কে দেখে তো মনে হলো সে নিজের কর্মকাণ্ড নিজেই এখনো ঠিক বিশ্বাস করে উঠতে পারেনি! এঁদের পাশে বরং অভিষেককেই অনেক বেশি স্বতসফূর্ত লাগছিল!
যাই হোক, এসব নেহাতই আমার পার্সোনাল অবসার্ভেসন ! ফলে এটা ঠিক ও হতে পারে বা ভুল। কিন্তু এ তে কোনো ভুল নেই যে বহু পার্টি কর্মী এখনও এই টুকু আশাতেই পার্টি করে যাচ্ছেন যে মৃত্যুর পর দেহের উপর একটা বিশাল লাল পতাকা আর কমরেড দের লাল সালাম পাবে!
আরও পড়ুন: ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ! কর্ণাটক হাইকোর্টে আইনি লড়াইয়ে রণবীর সিং
এই প্রসঙ্গে হঠাৎই মনে পড়লো, আমার বাবা কভিডের ফার্স্ট ওয়েভ এ চলে গেছিলেন! আমরা মৃতদেহ handover পাইনি , কিন্তু ওই লকডাউন এর বাজারেও লাল পতাকা জোগাড় করে তা দিয়ে বাবা কে মুড়িয়ে সবাই মিলে ইনটারন্যাশনাল গেয়ে ওনাকে বিদায় দিতে পেরেছিলাম !
বিকজ উই অল নিউ হি ডিসার্ভস ইট!
যাই হোক এ সব ভাবের কথা! তথ্যের কথা হলো এটাই যে বহু বড় বড় নেতা পার্টির মধ্যে মাইনরিটি হয়ে থেকেছেন থেকে গেছেন বছরের পর বছর! “আমার কথা কেউ শুনল না লো” বলে কেঁদে কেটে বিপক্ষ দলে যোগ দেননি! এ প্রসঙ্গে জ্যোতি বাবুর প্রধানমন্ত্রী না হতে পারার কথা আমরা সবাই জানি! এ আমাদের অনেকের ই চোখের সামনে দেখা।
ইতহাসে কিন্তু আরও আছে! যেমন ১৯৪৭ এ ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায় লাইন এর সঙ্গে একমত হতে পারেননি বহু নেতা ! তারা দলের বিভিন্ন ফর্মে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাফার ও করেছেন কিন্তু কজন বিরোধীই দলের পতাকা নিয়েছেন? পরবর্তী কালে উপরিউক্ত আজাদি লাইন rejected হওয়ার পরে পার্টির ভিতরে মাইনরিটি হয়েছেন স্বয়ং বি টি রনদিভে! কংগ্রেসে গেছেন কী?
আরও পড়ুন: ‘এই দিনটাতে নিজেকে একটু বেশি করে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করে’, জন্মদিনে জীবনের গল্প শোনালেন অপরাজিতা আঢ্য
পার্টি ভাগের বেদনায় ষাট এর দশকে বহু পার্টি কর্মী নেতা মন খারাপ নিয়ে বাড়িতে বসে গেছেন! সেটাকেই অভিমান বলে জানি, জানবো! আর পার্টি আমায় যথেষ্ট গুরুত্ব দেয় না বলে কেঁদে কেটে ক্ষমতাশীনের পা চাটা কে বলে লোভ!
দুটোর মধ্যে আসমান জমিন ফারাক আছে ব্রো! যাই হোক , শতরূপ দেখলাম কোথায় একটা বলেছেন – এরপরও ও যদি রাতে ভালো করে ঘুমাতে পারে ভালো!
সেই! আমারও তাই মত!
ঘুমোতে পারলে ঘুমোক!
আর আমরা ও বরং কাল থেকে এই টপিক থেকে মুভ অন করি !
আপনারা কী বলেন?”
আরও পড়ুন: কলকাতার সি-ফুডে মুগ্ধ! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসায় তাপসী পান্নু



