0%

প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়িতে সিআইডি হানা, সই জালিয়াতি কাণ্ডে কী বললেন চন্দ্রনাথ?

সৌতিক চক্রবর্তী, বোলপুর: বিধানসভার চিঠিতে স্বাক্ষর বা সই অসঙ্গতি মামলার জল এবার গড়াল রাঙামাটির জেলা বীরভূমে। তৃণমূল কংগ্রেসের চার হেভিওয়েট বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, বাহারুল ইসলাম ও তাপস মাইতির পর এবার সিআইডি (CID)-র রাডারে এলেন বোলপুরের বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলের জমা দেওয়া রেজোলিউশনে থাকা স্বাক্ষরটি আদৌ বোলপুরের বিধায়কের কি না, তা খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বোলপুরের নায়েক পাড়ার বাড়িতে পৌঁছন রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকরা। ক্ষমতা বদলের পর বিধানসভা সচিবালয়ের দায়ের করা মামলার জেরে একের পর এক বিধায়কের বাড়িতে গোয়েন্দা হানায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

“শুভেন্দুবাবু এই নাটক বন্ধ করতে পারতেন”, বিস্ফোরক চন্দ্রনাথ

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যখন সিআইডি আধিকারিকরা বোলপুরের বাড়িতে যান, তখন চন্দ্রনাথ বাবু সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তবে তাঁর বাড়িতে গোয়েন্দা হানার খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। সরাসরি রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে চন্দ্রনাথ সিনহা বলেন, “এই সব নাটক করার কোনও প্রয়োজন ছিল না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুবাবু যেহেতু বিধানসভার প্রশাসনিক প্রধান বা সেক্রেটারিয়েটের সর্বোচ্চ দায়িত্বে রয়েছেন, তিনি চাইলেই সমস্ত বিধায়কদের ডেকে সামনাসামনি বলতে পারতেন যে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে আপনারা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে চাইছেন কি না। কতজন বিধায়ক সই করেছেন তা অনায়াসেই বিধানসভায় ডেকে যাচাই করা যেত। তা না করে পুলিশ কেস করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলার এই নোংরা রাজনীতি উচিত হয়নি।” তবে সিআইডি যে সই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, সেই সইটি তাঁর নিজের কি না, তা সংবাদমাধ্যমের কাছে স্পষ্ট করেননি বোলপুরের বিধায়ক।

যে বৈঠক থেকে বিতর্কের সূত্রপাত

গত ৪ মে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনকাল হারিয়ে প্রধান বিরোধী দলের তকমা পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এরপর বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা কে হবেন, তা চূড়ান্ত করতে ৬ মে কালীঘাটে নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে এক হাইপ্রোফাইল বৈঠক ডাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকেই সর্বসম্মতিক্রমে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম বিরোধী দলনেতা হিসেবে চূড়ান্ত করা হয় এবং বিধানসভার সচিবের কাছে সেই সংক্রান্ত একটি রেজুলেশন বা চিঠি জমা দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি অভিযোগ করেন, প্রোটেম স্পিকারের সামনে বিধায়কদের করা মূল সইয়ের সঙ্গে এই রেজোলিউশনের সইয়ের ব্যাপক অমিল রয়েছে। সই জালিয়াতির এই গুরুতর অভিযোগের তদন্তভার হাতে নিয়েই এখন তৃণমূলের একের পর এক বিধায়কের দুয়ারে কড়া নাড়ছেন সিআইডি গোয়েন্দারা। এই তদন্তের জল আগামী দিনে কতদূর গড়ায়, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker