0%

Independence Day: দেশভাগের সময়েও থামেনি বাংলা ছবির যাত্রা, ১৯৪৭-৪৮-এর সিনেমার ইতিহাস

  ১৯৪৭-এর ১৫ অগস্ট ভারতের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। স্বাধীনতার সেই আবহে রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের পাশাপাশি বাংলা সিনেমার পর্দাতেও চলছিল বদলের হাওয়া। দেশভাগের যন্ত্রণা, অনিশ্চয়তা এবং নতুন দেশের স্বপ্নের মধ্যেও কলকাতার স্টুডিয়ো ও প্রেক্ষাগৃহে বাংলা ছবির কাজ থেমে থাকেনি। বরং স্বাধীনতার পরের সময়টিই বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হয়ে ওঠে।

১৯৪৭ সালে মোট ২৮টি বাংলা ছবি মুক্তি পেয়েছিল। তবে স্বাধীনতার ঠিক আগে বা পরে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলির মধ্যে সবকটির বিষয় দেশাত্মবোধক ছিল না। স্বাধীনতার আগেই মুক্তি পেয়েছিল ‘পথের দাবি’ এবং ‘দেশের দাবি’। কিন্তু ১৫ অগস্টের পর মুক্তি পাওয়া ছবিগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল অনন্ত মুখোপাধ্যায়ের ‘আমার দেশ’। যদিও দেশাত্মবোধের আবহে তৈরি এই ছবিটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। 

‘এটা বিজেপির দেওয়া ডিসকাউন্ট’, অভিষেকের বিদেশযাত্রার অনুমতি নিয়ে কেন সরব অরিত্র দত্ত বণিক?

স্বাধীনতা দিবসের দিনই কলকাতার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল অগ্রদূতের ‘স্বপ্ন ও সাধনা’। ছবিতে অভিনয় করেছিলেন সন্ধ্যারানি, পরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, নরেশ মিত্র এবং জহর গঙ্গোপাধ্যায়। ১৫ অগস্ট উত্তরা, পূর্বী ও উজ্জ্বলা প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির প্রদর্শন শুরু হয়। একই সময়ে স্বাধীনতার ঠিক আগের সপ্তাহে মুক্তি পাওয়া রতন চট্টোপাধ্যায়ের ‘আলকানন্দা’-ও কলকাতার একাধিক হলে প্রদর্শিত হচ্ছিল। 

তবে স্বাধীনতার পরের বাংলা ছবির তালিকা দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট—দেশাত্মবোধক গল্প তখনও বাংলা চলচ্চিত্রের একমাত্র আকর্ষণ হয়ে ওঠেনি। প্রেম, সাহিত্যনির্ভর কাহিনি, পৌরাণিক গল্প এবং সামাজিক নাটকই ছিল দর্শকদের পছন্দের মূল বিষয়। ১৯৪৭-এর উল্লেখযোগ্য সফল ছবির তালিকায় ছিল নরেশ মিত্রের ‘স্বয়ংসিদ্ধা’, সুবোধ মিত্রের ‘নার্স সিসি’, নীতিন বসুর ‘নৌকাডুবি’, অর্ধেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘পূর্বরাগ’, অখিল নিওগীর ‘মুক্তির বন্ধন’ এবং কার্তিক চট্টোপাধ্যায়ের ‘রামের সুমতি’। 

বিলুপ্তপ্রায় লার গিবনের সঙ্গে খেলায় মত্ত বিক্রম, ভিডিও ঘিরে কেন উঠল বিতর্ক?

পরের বছর, অর্থাৎ ১৯৪৮-এ বাংলা চলচ্চিত্রে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছবি আসে। এই সময়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ছবি নীতিন বসুর ‘দৃষ্টিদান’, যা ২৪ এপ্রিল ১৯৪৮ মুক্তি পায়। ছবিতে ছিলেন অসিতবরণ, ছায়া বিশ্বাস, কৃষ্ণচন্দ্র দে-সহ একাধিক পরিচিত শিল্পী। 

অর্থাৎ স্বাধীনতার পর বাংলা সিনেমা কোনও একক রাজনৈতিক ধারায় আটকে থাকেনি। বরং কঠিন সময়ের মধ্যেও বিনোদন, সাহিত্য ও সমাজজীবনের নানা গল্পকে পর্দায় তুলে ধরে নিজের স্বতন্ত্র পথেই এগিয়ে চলেছিল বাংলা চলচ্চিত্র। ১৯৪৭-৪৮-এর এই সময়কাল তাই স্বাধীন ভারতের বাংলা সিনেমার নতুন যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker