0%

নির্বাসন কাটিয়ে প্যারা এশিয়াডে রুপো পেয়েও হতাশ প্রমোদ, ‘সোনার হ্যাটট্রিক করতে পারলে ভালো লাগত’

ভারতীয় প্যারা স্পোর্টসে আক্ষরিক অর্থেই তিনি ‘সোনার ছেলে’। প্যারা ব্যাডমিন্টনে মঞ্চ যাই হোক না কেন, তাঁর পোডিয়ামের শীর্ষে থাকাটা যেন ধ্রুব সত্য ছিল। সেই প্রমোদ ভগত নির্বাসিত হয়েছিলেন ডোপের নিয়ম ভাঙার দায়ে। সেই শাস্তি কাটিয়ে ফের পদক গলায় পোডিয়ামে দাঁড়ালেন তিনি। যদিও সেই পদকের রং সোনালি না হওয়ার বেশ হতাশ তিনি। 

প্যারা ব্যাডমিন্টনের এসএল৩ ক্যাটেগরির সিঙ্গলস ইভেন্টে প্রমোদ রীতিমতো কিংবদন্তি। দু’বছর আগে আগস্টের মাঝে তাঁকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল ওয়াডা। এক বছরে তিনবার ‘হোয়ারঅ্যাবাউটস ক্লজ’ ভাঙার কারণে। যে রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েও জিততে পারেননি প্রমোদ। নির্বাসনে যাওয়ার আগের পাঁচ বছরে একের পর এক প্রতিযোগিতায় সোনা জিতেছেন এই ভারতীয়। যার মধ্যে রয়েছে টোকিও প্যারালিম্পিক, তিনটি বিশ্ব প্যারা চ্যাম্পিয়নশিপ ছাড়াও ছিল জাকার্তা এবং হাংঝৌ প্যারা এশিয়ান গেমস।

অর্থাৎ এবার আইচি-নাগোয়ায় প্যারা এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ের হ্যাটট্রিক করার সুযোগ ছিল প্রমোদের সামনে। যে সুযোগ এবং তাঁর মাঝে ছিলেন ভারতেরই নীতেশ কুমার। কিন্তু ফাইনালে স্বদেশি প্রতিপক্ষের কাছে ১৮-২১, ১৬-২১ পয়েন্টে হেরে হ্যাটট্রিক করা হল না প্রমোদের। চার বছর আগে জাপানেই তিনি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন নীতেশকে হারিয়ে। পরের বছর প্যারা এশিয়াডেও হয় তার পুনরাবৃত্তি। কিন্তু প্রমোদ নির্বাসনে যাওয়ার পর তাঁর শূন্যাস্থান দারুণভাবে পূরণ করেন নীতেশ। প্যারিসে প্যারালিম্পিকে সোনা জেতেন তিনি। এবার প্যারা এশিয়াডেও প্রমোদকে টেক্কা দিলেন নীতেশ।

এবছর কোর্টে ফিরেই ফের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছেন প্রমোদ। ফলে আইচি-নাগোয়ায় ফাইনাল হেরে হতাশ তিনি। সোনা না জিততে পারার আক্ষেপ গোপনও করছেন না ভারতীয় প্যারা শাটলার। “রুপো পেলাম। সেটা খারাপ ফল, বলছি না। তবে সোনা জিততে পারলে ভালো লাগত। প্যারা এশিয়ান গেমসে টানা তিনটে সোনা হয়ে যেত আমার। সেটা হল না। আমি হতাশ এই ফলে,” হোয়াটসঅ্যাপ কলে বলছিলেন প্রমোদ, “আজ আমার পারফরম্যান্স ভালো হয়নি। কিছু শট এদিক-ওদিক হয়েছে। কিছু সিদ্ধান্তও ঠিকঠাক নিতে পারিনি। যে জন্য রুপো পেলাম।”

এবার প্যারা এশিয়াডে একটা ব্রোঞ্জও পেয়েছেন প্রমোদ। মিক্সড ডবলসের এসএল৩-এসইউ৫ ক্যাটেগরিতে, মনীষা রামদাসকে সঙ্গী করে। তবে এখন থেকেই লস অ্যাঞ্জেলেস প্যারালিম্পিকের প্রস্তুতি শুরু করে দিতে চাইছেন প্রমোদ। তাঁর কথায়, “পরের গেমসে আর বছর দু’য়েক সময় আছে। দেশে ফিরে প্যারালিম্পিক কমিটির সঙ্গে কথা বলব। ওদের কী পরিকল্পনা রয়েছে জানব। সেই মতো নিজের প্রস্তুতি শুরু করব। লস অ্যাঞ্জেলেসেও সোনা জিততে চাই।” সত্যিই, সোনা যাঁর ‘অধিকার’, সেই প্রমোদ কি আর রুপোয় সন্তুষ্ট হবেন?

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker