0%

মধ্যপ্রদেশে AI-র সাহায্যে তৈরি মদ খেয়েই সর্বনাশ! মৃত্যু ১৩ জনের, গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত-সহ ১১ জন

সবদিক নিউজ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence)-এর সাহায্যে তৈরি ভেজাল মদ খেয়ে ১৩ জনের মৃত্যু! মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) এই ঘটনায় তদন্তে নেমে রীতিমতো হতবাক পুলিশ আধিকারিকরা। প্রযুক্তির সাহায্যে যেখানে নানা জটিল সমস্যার সমাধান খোঁজা হচ্ছে, সেখানে এআই ব্যবহার করে বাড়িতে বিষাক্ত মদ তৈরির পদ্ধতি শিখেছিল এক যুবক। অভিযোগ, সেই মদই বিক্রি করা হয়েছিল সাধারণ মানুষের কাছে। আর তার জেরেই একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস (Dewas) জেলার। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত ২৬ বছরের অজয় রাঠোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই সামনে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

মধ্যপ্রদেশে (Madhya Pradesh) AI-র সাহায্যে তৈরি মদ খেয়ে মৃত্যু ১৩ জনের

পুলিশের দাবি, অজয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়ে বাড়িতে রাসায়নিক ও জল মিশিয়ে মদ তৈরির পদ্ধতি শিখেছিলেন। পরে সেই মিশ্রণের সঙ্গে আসল মদ মিশিয়ে তা বিক্রি করা হত। শুধু তাই নয়, ভেজাল মদ যাতে সহজে ক্রেতাদের সন্দেহের উদ্রেক না করে, তার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের খালি বোতল সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সেই বোতলগুলিতে ভেজাল মদ ভরে বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হত। মূলত দেওয়াস জেলার বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় এই মদ বিক্রি করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। কী ভাবে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে এমন বিপজ্জনক কারবার চালানো হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা (Madhya Pradesh)।

 চাকরি ছেড়ে UPSC-র প্রস্তুতি! ইউটিউব থেকে চলে পড়াশোনা, দ্বিতীয় চেষ্টাতেই সফল হয়ে IAS হলেন যতীন

তদন্তকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২ অক্টোবর থেকে ৬-৭ অক্টোবরের মধ্যে একটি বাড়িতে এই ভেজাল মদ তৈরি করা হয়েছিল। এই কাজে অজয়কে সাহায্য করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে লোহার পিপলিয়ার বাসিন্দা গোবিন্দ এবং গাধেশ্যা পিপলিয়ার বাসিন্দা রামেশ্বরের বিরুদ্ধে। এরপর ৭ অক্টোবর থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে ওই মদ বিক্রি করা হয় বলে পুলিশের অনুমান। কোথা থেকে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা জানতে তদন্ত শুরু করেন আধিকারিকরা। সেই সূত্র ধরেই ইন্দোরের একটি গুদামের সন্ধান মেলে। অভিযোগ, ওই গুদাম থেকেই ভেজাল মদ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সরবরাহ করা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই গুদামটি সিল করে দিয়েছে পুলিশ।

এই ঘটনায় মৃত্যুর খবর সামনে আসতে শুরু করে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে। বিষমদ পান করার পর একের পর এক অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশ কয়েকজন। পরে তাঁদের মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্তে নামে পুলিশ। বেআইনি মদ তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে কারা জড়িত, কী ভাবে এই কারবার চলছিল এবং কোথায় কোথায় ওই মদ সরবরাহ করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, ভেজাল মদ তৈরির উপকরণ সংগ্রহ থেকে শুরু করে তা বোতলবন্দি করে বিক্রি করা—পুরো প্রক্রিয়াটির পিছনে একাধিক ব্যক্তির যোগ থাকতে পারে। তাই ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা চক্রের হদিস পাওয়ার চেষ্টা চলছে।

 এশিয়ার দ্বিতীয় ভ্যালুয়েবল টেলিকম সংস্থা! বাজারে লিস্টিংয়ের পর Jio-র দাপট, গ্লোবাল র‍্যাঙ্কিংয়েও বড় চমক

তবে এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছে এআই ব্যবহারের বিষয়টি। সাধারণত তথ্য খোঁজা, পড়াশোনা কিংবা নানা কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নেওয়া হলেও, তার অপব্যবহার কতটা ভয়াবহ হতে পারে, দেওয়াসের ঘটনা যেন সেই প্রশ্নই তুলে দিয়েছে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, এআই থেকে পাওয়া তথ্য কাজে লাগিয়েই বাড়িতে ভেজাল মদ তৈরির পদ্ধতি শিখেছিলেন অজয়। যদিও ঠিক কী ধরনের নির্দেশিকা বা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তের স্বার্থে সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার, বেআইনি মদের কারবার এবং একসঙ্গে এতগুলি মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘটনা মদ কেনার ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং ভেজাল মদের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে (Madhya Pradesh)।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker