Ushashie Chakraborty-Pratikur: প্রতিকুর ইস্যুতে সরব উষশী চক্রবর্তী, শিরদাঁড়া তুলে খোঁটা অভিনেত্রীর?

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার মুখেই বড়সড় ধাক্কা খেল বাম শিবির। দল ছাড়লেন সিপিএমের অন্যতম পরিচিত তরুণ মুখ এবং গত লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারের প্রার্থী প্রতিকুর রহমান। সূত্রের খবর, তিনি ইতিমধ্যেই নিজের পদত্যাগপত্র দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। ভোটের ঠিক আগে এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে। তিনি প্রতিকুর রহমানের নামে একটি চিঠি প্রকাশ্যে আনেন। যদিও কুণাল নিজেই জানিয়েছেন, চিঠির সত্যতা তিনি যাচাই করেননি, তবু তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন তৈরি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই চিঠিতে লেখা, “সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের বেশ কিছু ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে আমি নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছি না। এক গভীর মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। এই অবস্থায় আমি পার্টির জেলা ও রাজ্য কমিটির দায়িত্ব এবং প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
Debolina Nandy: স্বামী প্রবাহের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে দেবলীনা, দাবি করলেন খোরপোশ?
প্রতিকুরের পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসতেই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস আক্রমণাত্মক সুরে সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্বকে কটাক্ষ করতে শুরু করে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপ বাম শিবিরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে।
এদিকে, প্রতিকুরের দলত্যাগের পর সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন বামমনস্ক উষশী চক্রবর্তী, প্রয়াত বাম নেতা শ্যামল চক্রবর্তী-এর কন্যা। যদিও তিনি সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত স্পষ্ট। তিনি লেখেন, “অনেক দিন আগে নেপাল দা- ( নেপাল দেব ভট্টাচার্য ) দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে নাকি বলেছিলেন, ‘বাবা যদি ছেলেকে ত্যাজ্য করেন, ছেলে কি বাবাকে ত্যাগ করে?’ কথাটা আজ হঠাৎ মনে পড়ল।”
মস্তিষ্কে জটিল সার্জারি, চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের অভিনেত্রী
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “শুনেছি স্বয়ং মাও সে তুং বহুবার চীনা কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিবারই বহিষ্কৃত অবস্থায় থেকেও তাঁকে পার্টির মিছিলে সবার শেষে হাঁটতে দেখা গিয়েছিল।” পোস্টে উঠে আসে রবি ঠাকুরের পঙক্তিও-“জয়লোভে, রাজ্যলোভে অয়ি, বীরের সদগতি থেকে ভ্রষ্ট নাহি হই।”উষশীর কথায়, “আমাদের মতো কিছু ‘বোকা’ মানুষের কাছে জয়-পরাজয়ের চেয়ে মেরুদণ্ড সোজা রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যাদের অ্যাসেট ভাবি, তাঁদের কাছেও সেই প্রত্যাশাই করি।” রাজনৈতিক অস্থিরতার এই সময়ে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেও শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।



