0%

জ্ঞানেশ বিরোধী বিক্ষোভ দমনে মেগা কৌশল তৈরি, বিরোধীদের ‘বড় মাঠে’ খেলতে দিতে চায় মোদি সরকার

রণকৌশল তৈরি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দেশজুড়ে বিরোধীরা যে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে, সেই বিক্ষোভকে দুর্বল করতে বহুমুখী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। সেই পরিকল্পনা মোটামুটি তৈরি। বিক্ষোভ দুর্বল করতে কেন্দ্র আপাতত ‘ধৈর্যশীল’। বিক্ষোভকারীদের দমন করার জন্য পুলিশ যেমন একদিকে ‘আয়রন হ্যান্ড’ নীতি গ্রহণ করবে, তেমনই পরিস্থিতি অনুযায়ী বিক্ষোভকারীদের বড় মাঠে খেলার সুযোগও দেওয়া হবে। আবার বিক্ষোভকারীদের পালটা ন্যারেটিভও তৈরি করার চেষ্টা শুরু হয়েছে।

নিট ইস্যুতে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মিডিয়া রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর বিরোধীরা আত্মবিশ্বাসে ফুটছে। কংগ্রেস, ইন্ডি জোট যেমন নিজেদের মতো করে আন্দোলন করছে তেমনি ককরোচ জনতা পার্টির ব্যানারে সরকারের উপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে পড়ুয়ারা। সরকার এই দুই বিক্ষোভ দমনে দু’রকমের নীতি নিচ্ছে। সরকার ঠিক করেছে, বিক্ষোভকারীরা যদি পড়ুয়া বা জেন জি হয়, তাহলে তাঁদের প্রতি কঠোর মনোভাব দেখাবে না সরকার। পালটা ন্যারেটিভ তৈরি করা হবে। সোশাল মিডিয়ায় প্রচার করা হবে। বিজেপির সোশাল মিডিয়া কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই বিক্ষোভের ফলে যে অরাজকতা তৈরি হতে পারে, সেই সম্ভাবনা নিয়ে প্রচার চালাতে।

তাছাড়া সরকার যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিক্ষোভের বিরুদ্ধে নয়, সেটা বোঝাতে বিক্ষোভকারীদের জন্য রামলীলা ময়দানের মতো বড় বিক্ষোভের স্থল নির্ধারণ করা হয়েছে। যাতে বিক্ষোভ দেখালে সাধারণ দিল্লিবাসীকে সমস্যায় না পড়তে হয়, আবার পড়ুয়াদের বিক্ষোভের অধিকারও লঙ্ঘিত না হয়। বস্তুত মোদি সরকারের বক্তব্য, এতদিন ধরে মোদি স্বৈরাচারী বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, সেই ন্যারেটিভ ভেঙে দিতে বিরোধীদের বিক্ষোভ দেখানোর জন্য রামলীলা ময়দানের মতো ‘বড় মাঠ’ খুলে দেওয়া হয়েছে।

অবশ্য জেন জি বা পড়ুয়াদের বিক্ষোভে যে ধৈর্য দেখানো হবে, সেই একই রকম সহনশীলতা ইন্ডি জোট বা কংগ্রেসের বিক্ষোভে দেখানো হবে না। কংগ্রেস অঘোষিতভাবে কোনও কর্মসূচি করলে সেটা দমন করতে আয়রন হ্যান্ড নীতি নেবে দিল্লি পুলিশ। কেন্দ্র মনে করছে, পড়ুয়ারা মার খেলে সেটাতে ভুল বার্তা যায়। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মীরা আন্দোলন করতে গেলে পুলিশ ধরপাকড় করলে সেটা স্বাভাবিক বিষয়। এর বাইরে সোশাল মিডিয়ায় পালটা ন্যারেটিভ তৈরি করা হবে। বিশেষ করে আক্রমণ করা হবে রাহুল গান্ধীকে। রাহুলকে অরাজকতার ‘মুখ’ হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে। তাছাড়া ভোট চুরি নিয়ে কংগ্রেসের দ্বিচারিতা ফাঁস করতে যে সব রাজ্যে কংগ্রেস জিতেছে, সেসব রাজ্যের ভোট নিয়ে রাহুল নীরব কেন, সেই প্রশ্ন তোলা হবে। তাছাড়া বিরোধীদের কোণঠাসা করতে জনবিন্যাস বদলের কারিগর এবং অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষাকর্তা হিসাবে রাহুলকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে।

বিজেপির অবস্থান স্পষ্ট। এই ইস্যুটি মূলত নির্বাচন কমিশনের। তাই যা জবাব দেওয়ার কমিশনকেই দিতে হবে। কমিশন নিজেদের মতো করে অভিযোগের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করছে। আলাদা করে যেসব ভোটার বাদ গিয়েছেন তাঁদের ভোটার তালিকায় ফিরিয়ে আনারও চেষ্টা হচ্ছে। তাছাড়া জ্ঞানেশের ইস্তফার বিষয়টি কেন্দ্রের হাতেই নেই। সেটা হতে পারে একমাত্র ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker