0%

পরিচারিকার কাজ থেকে বিধায়ক, আউশগ্রামে কলিতা মাঝি আজ গোটা দেশের কাছে অনুপ্রেরণা

বাংলা হান্ট ডেস্ক : পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের এবারের নির্বাচনে উঠে এসেছে এক ব্যতিক্রমী সাফল্যের কাহিনি। সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা কলিতা মাঝি (Kalita Majhi) আজ আলোচনার কেন্দ্রে। সংসারের টানাপোড়েন সামলে পরিচারিকার কাজ করা এক নারীর বিধায়ক হয়ে ওঠার এই যাত্রা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার।

কলিতা মাঝির (Kalita Majhi) বিধায়ক হওয়ার গল্প

অভাবের সংসারে দীর্ঘদিন ধরেই লড়াই করে চলেছেন কলিতা মাঝি। অল্প উপার্জনের মধ্যেই সংসার চালাতে হত তাঁকে। সকালে দুটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ সেরে বিকেলের পর থেকেই শুরু হত রাজনৈতিক প্রচার। এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলেছিলেন তিনি। মানুষের সমস্যার কথা শোনা এবং পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েই ধীরে ধীরে নিজের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছেন।

পরিবারের সমর্থন তাঁর পথচলাকে আরও শক্তি জুগিয়েছে। বিশেষ করে স্বামী এবং শাশুড়ির সহযোগিতায় রাজনীতিতে সময় দেওয়া অনেকটাই সহজ হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। ২০১৪ সালে বুথ কর্মী হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। তারপর ধাপে ধাপে দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছেন। নগর সম্পাদিকার দায়িত্ব পালন থেকে জেলা কমিটিতে কাজ, অবশেষে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী ময়দানে নামা- দলের নেতৃত্বের উপর আস্থা রেখেই এগিয়েছেন কলিতা।

জয়ের পরে তাঁর বক্তব্যেও উঠে এসেছে শান্তি বজায় রাখার বার্তা। কলিতা মাঝি বলেন, “এই জয় সাধারণ মানুষের জয়। কোনও সন্ত্রাস বা হিংসা বরদাস্ত করা হবে না।” দলীয় কর্মীদেরও সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, কোনওভাবেই আইন-শৃঙ্খলা নষ্ট করা যাবে না এবং কেউ দোষী প্রমাণিত হলে দলই ব্যবস্থা নেবে।

রাজনীতির পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে কলিতা মাঝিকে। আর্থিক সমস্যার কারণে নির্বাচনী লড়াই সহজ ছিল না। ভোটের খরচের বড় অংশই দলীয়ভাবে সামলানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এমনকি ভোটার তালিকায় নিজের নাম থাকা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল একসময়। তবুও আত্মবিশ্বাস হারাননি তিনি। প্রচারের সময় থেকেই তিনি “১০০ শতাংশ জয়ের” কথা বলেছিলেন। ফল প্রকাশের পর সেই আত্মবিশ্বাসই বাস্তবে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন : তৃণমূলের ভরাডুবির পর দল বিরোধী মন্তব্য, পাঁচ মুখপাত্রকে নিয়ে ‘অ্যাকশন’ ঘাসফুলের

কলিতা মাঝি বলেন, মানুষের ভালবাসা এবং সমর্থনের ফলেই এই জয় সম্ভব হয়েছে। আগামী দিনে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি। গরিব পরিবারের এক নারীর সংগ্রাম পেরিয়ে বিধানসভায় পৌঁছে যাওয়ার এই কাহিনি এখন আউশগ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। এখন দেখার, মানুষের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারেন নবনির্বাচিত এই বিধায়ক।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker