বয়সে ২৬ বছরের ফারাক, ট্রোলিংকে হার মানিয়ে ১৩ বছরের সম্পর্ক মিলিন্দ-অঙ্কিতার

মিলিন্দ সোমান বহু প্রজন্মের হৃদয়জয়ী এক নাম। ২০১৮ সালে তিনি যখন অঙ্কিতা কনওয়ারকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন, তখনই তা শিরোনামে আসে। কারণ, দু’জনের বয়সের পার্থক্য ছিল ২৬ বছর, তখন মিলিন্দের বয়স ৫২ এবং অঙ্কিতার ২৬। স্বাভাবিকভাবেই এই সম্পর্ককে ঘিরে শুরু হয় নানা সমালোচনা ও ট্রোলিং।
সম্প্রতি জুম-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিলিন্দ জানান, এই ট্রোলিং তাঁকে খুব একটা প্রভাবিত করেনি, তবে অঙ্কিতার উপর এর প্রভাব পড়েছিল। তাঁর কথায়, “আমাকে এটা বিরক্ত করেনি। কিন্তু অঙ্কিতার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আলাদা ছিল, কারণ ওর অভিজ্ঞতা কম ছিল। আমরা বিষয়টা নিয়ে কথা বলেছিলাম। আমি ওকে বলেছিলাম, যারা এসব বলছে তাঁরা আমাদের চেনে না, তাই এগুলো শুধু তাঁদের মতামত। ও খুব দ্রুতই বিষয়টা বুঝে নেয়, এর জন্য ওর কৃতিত্ব প্রাপ্য।”
তিনি আরও বলেন, “তারপর থেকে আর এসব ওকে প্রভাবিত করেনি। আমাদের সম্পর্কের দৃঢ়তার জন্যও এটা সম্ভব হয়েছে। এখন আমাদের সম্পর্ক নিয়ে অনেক বেশি স্বীকৃতি দেখা যায়। যদিও আমাদের সেটার প্রয়োজন নেই, তবুও ভালো লাগে। মানুষ এখন স্বচ্ছন্দ যে আমাদের সম্পর্ক ১৩ বছর ধরে টিকে আছে।”
এর আগে হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিলিন্দ বলে ছিলেন, বয়স এবং সাংস্কৃতিক পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তাঁদের সম্পর্ক সুন্দরভাবে গড়ে উঠেছে। তাঁর কথায়, “ও আমার থেকে ২৬ বছর ছোট, তাই ভাবনা, বেড়ে ওঠা এবং পরিবেশ সবই আলাদা। ওর ভাবনাগুলো ভীষণ আলাদা এবং অসাধারণ।”
আরও পড়ুন: মুমূর্ষু টলিউড! বাংলার সিনেমা কেন পিছিয়ে? বিস্ফোরক মন্তব্য অপর্ণা সেনের
তিনি আরও বলেন, “ও অসমিয়া, আমি মহারাষ্ট্রীয়, আমরা যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই জগতের মানুষ। প্রজন্ম, ভাষা, খাবার সবকিছুতেই পার্থক্য রয়েছে। তবুও আমরা এমন একটা জায়গা খুঁজে পেয়েছি, যেখানে আমাদের ভাবনা, অনুভূতি আর আত্মা এক হয়ে যায়। ওর জন্যই আমার জীবন আরও ভালো হয়েছে।”
আরও পড়ুন: নীল পোশাকে ঈদ স্পেশাল! আবার আলোচনায় যশ-নুসরত জুটি
অঙ্কিতা পেশায় একজন এয়ার হোস্টেস ছিলেন। চেন্নাইয়ের একটি হোটেলে তাঁদের প্রথম দেখা হয়, সেখান থেকেই সম্পর্কের শুরু, এবং পরে ২০১৮ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
এদিকে, বয়সের পার্থক্য থাকা সম্পর্ক নিয়ে মনোবিদ রিমা ভান্ডেকর বলেন, “এ ধরনের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলিতে দু’জনের মত এক হওয়া জরুরি। সঙ্গীর বয়স অনুযায়ী তার জীবনযাত্রা, ক্যারিয়ার, সম্পর্ক বা আর্থিক অবস্থাকে বুঝে সমর্থন করাও খুব প্রয়োজন।”
আরও পড়ুন: গান থেকে গণতন্ত্র! রাজারহাটে অদিতি বনাম তরুণজ্যোতি



