0%

সন্তান চাননি অরুনা, কুকু আগে থেকে বিবাহিত সেকথাও জানতেন, বিরোধ থেকে কীভাবে গড়ে উঠেছিল তাঁদের প্রেম?

কুকু কোহলির প্রয়াণের পর তাঁর ব্যক্তিজীবন এবং অভিনেত্রী অরুণা ইরানির সঙ্গে সম্পর্কের গল্পও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মঙ্গলবার হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৭ বছর বয়সে প্রয়াত হন এই পরিচালক। প্রথম স্ত্রী রীতা কোহলির সঙ্গে তাঁর দুই কন্যা- পূজা ও করিশ্মা। পরবর্তীকালে অভিনেত্রী অরুণা ইরানিকে বিয়ে করেন কুকু। তবে তাঁদের সম্পর্কের শুরুটা মোটেই সহজ ছিল না। বরং প্রথম সাক্ষাতেই পরিচালকের প্রতি তীব্র বিরক্তি তৈরি হয়েছিল অরুণার। ১৯৯১ সালের ‘কোহরাম’ ছবির শুটিং থেকেই তাঁদের পরিচয়ের সূত্রপাত।

এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে অরুণা জানিয়েছিলেন, তখন সংসার চালাতে পরপর বহু ছবিতে অভিনয় করছিলেন তিনি। দক্ষিণ ভারতেও তাঁর একাধিক ছবির কাজ চলছিল। কুকু এক মাসের শুটিংয়ের জন্য তাঁর কাছে সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে কয়েকদিন কাজ করার পর অরুণা জানিয়ে দেন, তাঁর পক্ষে পুরো ছবিতে সময় দেওয়া সম্ভব নয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন পরিচালক। অরুণার কথায়, “আমি তখন কুকু জিকে একেবারেই পছন্দ করতাম না। উনিও আমার উপর বিরক্ত ছিলেন।” তাঁর দাবি, অনেক সময় সারাদিন সেটে বসিয়ে রাখার পর মাত্র একটি দৃশ্যের শুটিং করতেন কুকু। ফলে দু’জনের মধ্যে প্রায়ই মতবিরোধ লেগে থাকত।

রাতে বাড়ি ফিরতে দেরি? জয়ার বকুনি এড়াতে অমিতাভের ‘সিক্রেট’ কৌশল ফাঁস

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কই বদলে যায়। অরুণা জানান, ধীরে ধীরে কুকুর আচরণ নরম হয় এবং তাঁদের বন্ধুত্ব তৈরি হয়। পরিচালক তাঁর শিডিউলও সামঞ্জস্য করতে শুরু করেন। সেখান থেকেই বন্ধুত্ব গড়ায় প্রেমে। তবে সম্পর্কের পথে বড় বাধা ছিল কুকুর প্রথম বিয়ে। অরুণা জানতেন, কুকু আগে থেকেই রীতা কোহলিকে বিয়ে করেছিলেন এবং তাঁদের দুই সন্তানও রয়েছে। তাই তাঁদের বিয়েটি দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে আনতে চাননি অভিনেত্রী। অরুণার কথায়, “আমি জানতাম উনি বিবাহিত। ওঁর স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে শুটিংয়ের সেটেও আসতেন।”

সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে অরুণা একবার বলেছিলেন, “আমি কাউকে কষ্ট দিতে বা কারও সংসার ভাঙতে এই সম্পর্কে জড়াইনি।” তাঁর আরও বক্তব্য ছিল, “স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের জন্য স্ত্রী অন্য মহিলাকে দায়ী করেন। কিন্তু নিজের স্বামীর কাছেও তো প্রশ্নটা করা উচিত।” তিনি মনে করতেন, “বিয়ের কোনও নিরাপত্তা নেই, ভালোবাসার নিরাপত্তা আছে। ভালোবাসা থাকলেই বিয়ে টিকে থাকে, না হলে সেটা শুধু একটা কাগজ।”

মামী সুনীতাকে ভালোবাসেন, আর মামা গোবিন্দাকে! ‘ঘরের কথা ঘরেই’, বিস্ফোরক ভাগ্নে কৃষ্ণা

নিজেদের সম্পর্কের শুরুতেই সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অরুণা ও কুকু। কারণ হিসেবে অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি নিজে বাবার দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কষ্ট নিজের সন্তানের জীবনে আনতে চাননি। তাঁর কথায়, “আমি যদি সন্তান নিই, ও যদি একদিন জিজ্ঞেস করে, বাবা কোথায়, তখন আমি কী উত্তর দেব? তাই আমি সন্তান চাইনি।” কুকু-র সঙ্গে অরুণার ব্যক্তিগত সম্পর্কের পাশাপাশি ছিল দীর্ঘ পেশাগত সহযোগিতাও। ‘ফুল অউর কাঁটে’, ‘সুহাগ’, ‘হকিকত’, ‘আনারি নম্বর ওয়ান’ ও ‘জুলমি’-সহ একাধিক ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন তাঁরা। এমনকি ‘ইয়ে দিল আশিকানা’ ছবিটি প্রযোজনাও করেছিলেন অরুণা। রীতার মৃত্যুর পরই তাঁদের বিবাহিত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে শুরু করেন তিনি।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker